রাখাইনে জান্তা বাহিনীর বিমান হামলা, বহু হতাহতের শঙ্কা

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৬, ১১:০২

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আবারও ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে জান্তা বাহিনী। এতে বহু বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সময়ে সাগাইং অঞ্চলে জান্তাবিরোধী দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষে প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। চলমান সহিংসতার মধ্যে চলতি বছরের প্রথম চার মাসে প্রায় ৬ লাখ ৮৭ হাজার মানুষ মিয়ানমার ছেড়ে থাইল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছেন।

রাখাইনের বুথিডং উপজেলায় যুদ্ধবিমান থেকে শহরের আশপাশের গ্রামগুলোতে একের পর এক বোমা হামলা চালানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ১০টি শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করেছে জান্তা বাহিনী। এতে বেসামরিক হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, সাগাইং অঞ্চলের মোনিওয়া শহরে জান্তাবিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সমান্তরাল জাতীয় ঐক্য সরকারের (এনইউজি) অনুগত পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ) এবং পিপলস সিকিউরিটি ফোর্সের (পিএসএফ) মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। পিএসএফের কয়েকটি ক্যাম্পে পিডিএফের আকস্মিক অভিযানের পর এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

চলমান সহিংসতা, নিরাপত্তাহীনতা এবং জান্তা সরকারের বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ এড়াতে দেশ ছাড়ছেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা (আইওএম)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে প্রায় ৬ লাখ ৮৭ হাজার মিয়ানমারের নাগরিক প্রতিবেশী থাইল্যান্ডে প্রবেশ করেছেন। নিরাপত্তা সংকট, জোরপূর্বক সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির আশঙ্কা এবং অর্থনৈতিক দুরবস্থাই এই দেশত্যাগের প্রধান কারণ।

সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে সংঘাতে এক লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি বর্তমানে এশিয়ার সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতগুলোর একটি এবং প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, চলমান সংঘাতের কারণে দেশটিতে ৩৭ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এছাড়া প্রতি পাঁচজনের একজন তীব্র খাদ্যসংকটে ভুগছেন, যার প্রভাব পড়ছে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপরও।

ইত্তেফাক/এসজে