কাশ্মীর :কারফিউর মধ্যে ঈদ উদ্যাপন

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০১৯, ২০:৪১

বড়ো মসজিদ, ঈদগাহ বন্ধ

g বিবিসি

ভারত-শাসিত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার ঠিক এক সপ্তাহের মাথায় শ্রীনগরসহ গোটা কাশ্মীর উপত্যকায় সোমবার কোরবানির ঈদ পালিত হয়েছে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা আর কঠোর কারফিউর মধ্যে। শ্রীনগরের বড়ো কোনো মসজিদে বা প্রধান রাস্তায় ঈদের জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হয়নি। শহরের রাস্তাঘাট ছিল প্রায় জনশূন্য, মোবাইল-ল্যান্ডলাইন বা ইন্টারনেট পরিষেবাও এখনো চালু হয়নি।

এদিকে বাকি ভারতের যেসব অভিবাসী শ্রমিক কাশ্মীরে গিয়ে কাজ করতেন, অগ্নিগর্ভ উপত্যকা থেকে তারাও দলে দলে ফিরে এসেছেন, কিন্তু ঈদের আগে তারা হাতে যে কিছু টাকা-পয়সা পাবেন বলে ভেবেছিলেন সে সব কিছুই তাদের জোটেনি। শ্রীনগর থেকে সোমবার সকালে বিবিসির ইউগিতা লিমায়ে জানাচ্ছিলেন, গত দুদিন ধরে শহরে কারফিউ যে অল্প কিছুটা শিথিল করা হয়েছিল, তা ঈদের দিন সকাল থেকেই ফের উধাও। কিন্তু কেন আবার নতুন করে এই কড়াকড়ি, সরকারি কর্মকর্তারা তার কোনো জবাব দেননি। তারা দাবি করেছেন কোনো কারফিউ নেই, শুধু নিয়মটা হলো চারজনের বেশি লোক এক সঙ্গে এক জায়গায় জড়ো হতে পারবেন না। অথচ রাস্তায় দেখা গিয়েছে পুলিশের গাড়ি মাইকিং করেছে, কেউ যেন কারফিউতে বাড়ি থেকে না-বেরোয়। ইউগিতা লিমায়ের কথায়, সব মিলিয়ে যেন একটা পরস্পরবিরোধী বার্তা দেওয়া হচ্ছে। কাশ্মীর উপত্যকা থেকে বিবিসির অন্য সংবাদদাতারাও জানাচ্ছেন, জামিয়া মসজিদ বা হজরতবালের মতো প্রধান মসজিদগুলোতে কোনো বড়ো ঈদ জামাতের অনুমতি দেওয়া হয়নি। মানুষকে বলা হয়েছে, নিজেদের মহল্লাতে স্থানীয় ছোটো মসজিদেই যেন তারা ঈদের নামাজ আদায় করেন।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, মানুষ শ্রীনগরের একটি মসজিদের ভেতর ঈদের নামাজ পড়েছেন, তবে সেখানেও বড়োজোর ৭০ বা ৮০ জনের মতো ছিলেন। শ্রীনগরে ঈদের দিনে সুনসান রাস্তা। বড়ো কোনো মসজিদেই ঈদের নামাজের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এর মধ্যে খবর এসেছে, পুলিশের পেলেট গান বা ছররা বন্দুকের গুলিতে আহত হয়ে অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে - যদিও সরকার সে কথা অস্বীকার করছে। গুলিতে জখম হয়ে হাসপাতালে কেউ ভর্তি আছেন কী না, বিবিসির এ প্রশ্নের সরাসরি জবাব এড়িয়ে গিয়ে জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের এক মুখপাত্র দাবি করেন পুলিশ একটা বুলেটও চালায়নি।

এদিকে কাশ্মীরে সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউট ঈদের দিনেও অব্যাহত ছিল, অন্তত মানুষ টেলিফোনে প্রিয়জনদের সঙ্গে একটু কথা বলতে পারবেন তাদের সেই আশাও পূর্ণ হয়নি। এর মধ্যে দলে দলে অভিবাসী শ্রমিক কাশ্মীর ছেড়ে বাসে বা ভাড়া গাড়িতে পালাতে শুরু করেছেন। শ্রীনগরে শহরের লালচক এলাকার কাছে জনাকয়েক কাশ্মীরি বলেন, বাংলা-বিহার-দিল্লি থেকে বহু শ্রমিক রোজগারের আশায় এখানে আসেন। কাশ্মীরে মজুরির জন্য তারা যে পয়সা পান ভারতের কোথাও তা পাওয়া যায় না, উল্টো মালিক এখানে দুবেলা তাদের খেতেও দেয়। কিন্তু সরকারের সিদ্ধান্তে এই বিহারি বা হিন্দুদেরও এখন পালাতে হচ্ছে, অর্থাত্ সব ধর্মের লোকেরাই এর ফল ভুগছে। ফলে এবারের কোরবানির ঈদে কাশ্মীর উপত্যকা জুড়ে শুধুই দমবন্ধ আতঙ্ক, উত্তেজনা আর হতাশারই ছবি। তা সে কাশ্মীরের ভূমিপুত্রদের জন্য যেমন, তেমনি বহিরাগতদের জন্যও।