একটি অর্থঋণ মামলায় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এড়াতে দীর্ঘ ৯ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছদ্মবেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন মোছা. শাহিদা আক্তার। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তার। অবশেষে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নাটোরের লালপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল রংপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত শাহিদাকে নাটোর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সোপর্দ করা হয়। এর আগে বুধবার (১ জুলাই) রাতে রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানার আলমনগর মহাদেবপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া শাহিদা আক্তার নাটোরের লালপুর উপজেলার উত্তর লালপুর গ্রামের আকতার হোসেনের স্ত্রী। তার বিরুদ্ধে নাটোরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে একটি অর্থঋণ সংক্রান্ত মামলা চলছিল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত ওই মামলায় শাহিদা আক্তারকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়া জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছিল।
আদালতের রায়ের পর থেকেই আইনি সাজা এড়াতে শাহিদা আক্তার সম্পূর্ণ আত্মগোপনে চলে যান। নিজের আসল পরিচয় গোপন করে গত ৯ বছর ধরে তিনি দেশের এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাযাবরের মতো জীবনযাপন করছিলেন। তবে লালপুর থানা পুলিশ আসামিকে আইনের আওতায় আনতে তৎপর ছিল। অবশেষে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সুনির্দিষ্ট সহায়তায় শাহিদার বর্তমান অবস্থান শনাক্ত করতে পারে পুলিশ। সেই তথ্যের ভিত্তিতে লালপুর থানার একটি দল সুদূর রংপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, সাজাপ্রাপ্ত আসামি শাহিদা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত চতুরতার সাথে পলাতক ছিলেন। তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও প্রযুক্তির সাহায্যে বুধবার রাতে আমরা তাকে রংপুর থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

