ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৩:১৭

রাজবাড়ী গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া পোড়াভিটায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এক পুলিশ সদস্যের ঘুস নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়োমোটো) হয়ে আমলে নিয়ে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

গত ১ জুলাই রাজবাড়ীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, গোয়ালন্দ আমলি আদালতের বিচারক মো. মহসিন হাসান এ আদেশ দেন। তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফেসবুক পেজ থেকে ‘দৌলতদিয়া পুড়া ভিটার শীর্ষ মাদক কারবারি রিনার কাছ থেকে ঘুষ নিচ্ছেন গোয়ালন্দ থানার পুলিশ’ শিরোনামে একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়। ভিডিওটি আদালতের দৃষ্টিগোচর হলে বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, এক নারী যুবকের হাতে কিছু টাকা প্রদান করছেন এবং ওই ব্যক্তি টাকা নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করছেন। ভিডিওর শিরোনাম ও বিবরণ অনুযায়ী, টাকা গ্রহণকারী ব্যক্তি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট থানার কর্মরত পুলিশের একজন সদস্য এবং অর্থ প্রদানকারী নারী দৌলতদিয়া পোড়াভিটা এলাকার চিহ্নিত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী রানি। ঘটনাটি ঘটে গোয়ালন্দ ঘাট থানার দৌলতদিয়া এলাকায়, যা আদালতের ভৌগোলিক এখতিয়ারাধীন।

বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, অভিযোগটি সত্য হলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে কথিত মাদক কারবারির কাছ থেকে অবৈধ অর্থ গ্রহণের বিষয়টি আইনের শাসন, সুশাসন, ন্যায়বিচার এবং বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তির ওপর গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা উদঘাটনে নিরপেক্ষ ও কার্যকর অনুসন্ধান প্রয়োজন। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে আদালত দি কোড অব ক্রিমিনাল প্রসেডস, ১৮৯৮’-এর ধারা ১৯০(১) (সি) অনুযায়ী বিষয়টি স্বতঃপ্রণোদিতভাবে আমলে নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন।

আদেশে বলা হয়েছে, রাজবাড়ীর পুলিশ সুপারকে নিজে অথবা তার অধস্তন অন্য কোনো দক্ষ কর্মকর্তা (যিনি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার নিচে নন) দ্বারা ভিডিওটির সত্যতা যাচাই, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত, অর্থ গ্রহণকারী ব্যক্তি বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য কিনা তা নির্ধারণ, কোনো ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কিনা এবং সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশসহ বিস্তারিত বর্ণনাপূর্বক একটি তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৬ জুলাই। 

এই আদেশের অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজবাড়ীর জেলা ও দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশ সুপার বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।

এদিকে, দৌলতদিয়া পোড়াভিটা থেকে টাকা নেওয়ার ভিডিও ভাইরালের ঘটনার মধ্যেই গোয়ালন্দ ঘাট থানার কনস্টেবল মামুন শিকদারকে গাজীপুর জেলায় বদলি করা হয়েছে। গত ২৮ জুন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজির পক্ষে পুলিশ সুপার (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ফিন্যান্স) মোহা. কাজেম উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এই বদলির আদেশ দেওয়া হয়।

তবে এই বদলিকে শাস্তিমূলক মানতে নারাজ গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ নিয়মিত বদলির অংশ। কনস্টেবল মামুন নিজেই এখান থেকে বদলি হয়ে অন্য জেলায় যেতে চেয়েছিলেন। তাছাড়া ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি প্রায় ছয় মাস আগের। তখন সহকারী পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে এই বিষয়ে একটি তদন্ত হয়েছিল।’

ইত্তেফাক/এমএসআর