চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বণ্ডবিল রেলগেটে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালাতে নিষেধ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে দুই পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। পরে এ ঘটনায় স্থানীয়দের সহায়তায় চার কিশোরকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) আলমডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিকাশ চন্দ্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে এই ঘটনাটি ঘটে। এ সময় স্থানীয়দের সহায়তায় ৪ কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। তবে তাদের সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।
আটক কিশোররা হলেন, চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপাড়ার শুকুর আলীর ছেলে সাকিব (১৭), সাইফুল ইসলামের ছেলে আহমেদ হোসেন (১৭), রায়হান আহম্মেদের ছেলে রাজ (১৮) এবং আব্দুল্লাহ মন্ডলের ছেলে আব্দুল (১৬)।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, আলমডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শোভন কুমার এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সোহেল রানা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি অভিযোগের তদন্তে শুক্রবার বিকেলে সিভিল পোশাকে উপজেলার বাড়াদী ইউনিয়নের নতিডাঙ্গা গ্রামে যান এসআই শোভন কুমার ও এএসআই সোহেল রানা। তদন্ত শেষে মোটরসাইকেলে করে ফেরার পথে বন্ডবিল এলাকায় ৬ থেকে ৭টি মোটরসাইকেলে ১২ থেকে ১৪ জন কিশোর উচ্চ শব্দে সাইলেন্সার ফাটিয়ে এবং বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছিল।
এ সময় পুলিশ সদস্যরা তাদের ধীরগতিতে চলার জন্য নির্দেশ দেন। এতে কিশোররা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ সদস্যরা নিজেদের পরিচয় দিলেও তারা তা উপেক্ষা করে প্রথমে ধাক্কাধাক্কি এবং পরে দলবদ্ধভাবে দুই পুলিশ সদস্যকে মারধর করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় চার কিশোরকে আটক করা হলেও তাদের সঙ্গে থাকা অন্যরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।
আহত পুলিশ সদস্য (এএসআই) সোহেল রানা জানান, ৬ থেকে ৭টি মোটরসাইকেলে ১২ থেকে ১৪ বছরের কিশোর মোটরসাইকেলের সাইলেন্সার ফাটিয়ে এবং বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছিল। এসময় তাদের গতি কমাতে বললে তারা উগ্রভাবে আমাদের উপর আক্রমণ করে। আমরা পুলিশ পরিচয় দেয়ার পরও তারা আমাদের উপরে দলবদ্ধভাবে হামলা করে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ৪ জনকে আটক করা হয়।
আলমডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিকাশ চন্দ্র জানান, পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় ৪ কিশোরকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে বলে তিনি জানান।

