এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল মিরপুরে কেজি গ্র্যাজুয়েশন সেরিমনি অনুষ্ঠিত

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৬, ১৮:৩২

এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল মিরপুরের কিন্ডারগার্টেন গ্র্যাজুয়েশন সেরিমনি ২০২৫–২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ১০টায় মিরপুর ডিওএইচএসের মিরপুর কালচারাল কনভেনশন হলে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় গ্র্যাজুয়েশন সেরিমনি। 

অনুষ্ঠানে ১৫০ জন কেজি শিক্ষার্থীর আনুষ্ঠানিক গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন হয়। এ উপলক্ষে প্রায় ৭০০ জন অভিভাবক, অতিথি, শিক্ষাবিদ, শুভানুধ্যায়ী ও স্কুল পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে মিলনমেলায় পরিণত হয় পুরো অনুষ্ঠানস্থল। বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিশুদের শিক্ষাজীবনের প্রথম একাডেমিক মাইলফলক উদযাপিত হয়।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিয়ারসন পিএলসি-এর বাংলাদেশ ও নেপালের রিজিওনাল ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার লিটন আবদুল্লাহ, ব্রিটিশ কাউন্সিলের ইংলিশ অ্যান্ড এক্সামস বিভাগের অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার আনিকা বুশরা, একই বিভাগের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার নাজমুস সাকিব আহমেদ, অক্সফোর্ড একিউএ-এর বাংলাদেশ ও নেপালের কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. শাহিন রেজা, বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ শাইখ ড. প্রফেসর এবিএম হিযবুল্লাহ, বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ শাইখ সানা উল্লাহ আযহারী, শাইখ রফিকুল্লাহ মাদানী এবং শাইখ শরাফত উল্লাহ নাদভী।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ও এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল মিরপুর-এর অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্য মজিদুল হক লিটন, অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্য আফজালুল ইসলাম, এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল মিরপুর-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দা মনিকা সোহাগ এবং বিদ্যালয়ের চিফ অ্যাডভাইজর ও বিশিষ্ট ইসলামি স্কলার শাইখ প্রফেসর মোখতার আহমদ।

অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ কাউন্সিলের ইংলিশ অ্যান্ড এক্সামস বিভাগের অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার আনিকা বুশরা বলেন, একটি শিশুর ভবিষ্যৎ গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো প্রারম্ভিক শিক্ষা। তিনি শিক্ষার্থীদের ভাষা দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা ও বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে বিদ্যালয়ের আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং অভিভাবকদের সক্রিয় অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

একই প্রতিষ্ঠানের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার নাজমুস সাকিব আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা শুধু ভালো ফলাফলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ দক্ষতা, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি, সহযোগিতা ও আজীবন শেখার মানসিকতা গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল মিরপুরের সমন্বিত শিক্ষা উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

অক্সফোর্ড একিউএ-এর বাংলাদেশ ও নেপালের কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. শাহিন রেজা বলেন, একটি শক্তিশালী ভিত্তিই ভবিষ্যতের সফলতার চাবিকাঠি। তিনি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষার মাধ্যমে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করে তোলার ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।

পিয়ারসন পিএলসি-এর বাংলাদেশ ও নেপালের রিজিওনাল ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার লিটন আবদুল্লাহ বলেন, ভবিষ্যতের পৃথিবীতে সফল হতে হলে শিশুদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, সমস্যা সমাধান, যোগাযোগ, নেতৃত্ব, সহযোগিতা এবং ডিজিটাল সক্ষমতার মতো দক্ষতাও অর্জন করতে হবে। তিনি আন্তর্জাতিক মানের পাঠক্রমের সঙ্গে নৈতিক ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ের জন্য বিদ্যালয়কে অভিনন্দন জানান।

বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ শাইখ ড. প্রফেসর এবিএম হিযবুল্লাহ বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে শিক্ষা হলো ইবাদতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তিনি বলেন, কুরআন, সুন্নাহ, উত্তম চরিত্র এবং আধুনিক জ্ঞানের সমন্বয়ে বেড়ে ওঠা শিশুরাই একটি আলোকিত সমাজ গঠনে নেতৃত্ব দেবে। তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য দোয়া করেন এবং অভিভাবকদের সন্তানদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আরও যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান।

এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল মিরপুরের শরিয়াহ ও ইসলামিক সেন্টারের লিড স্কলার শাইখ প্রফেসর মোখতার আহমদ বলেন, শিশুরা আল্লাহর অমূল্য আমানত। তাদের হৃদয়ে ছোটবেলা থেকেই ঈমান, শিষ্টাচার, সত্যবাদিতা, মানবিকতা ও জ্ঞানার্জনের ভালোবাসা গড়ে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব। তিনি এভারোস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল মিরপুরের শিক্ষা দর্শনের প্রশংসা করেন।

শাইখ সানা উল্লাহ বলেন, একটি শিশুর প্রকৃত সফলতা কেবল একাডেমিক ফলাফলে নয়; বরং তার চরিত্র, আদব, তাকওয়া ও মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করার মধ্যেই নিহিত। তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য কল্যাণময় ভবিষ্যৎ কামনা করেন।

শাইখ রফিকুল্লাহ মাদানী বলেন, পবিত্র কুরআনের শিক্ষা ও আধুনিক জ্ঞানের সমন্বয় একটি ভারসাম্যপূর্ণ ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি বিদ্যালয়ের এই অনন্য শিক্ষাধারার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং শিক্ষার্থীদের নেককার, জ্ঞানী ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার দোয়া করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল মিরপুর-এর অধ্যক্ষ ফাতিমা জেমাইমা রহমান, ভাইস প্রিন্সিপাল তাসলিমা সামাদ এবং এলিমেন্টারি সেকশনের প্রধান জ্যোতি ফারহানা গাজী। 

অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাতিহা রহমান সুবাহ (গ্রেড–১০), নাফসা তানসিয়াত সুবাইতা (গ্রেড–১০), সাবরিনাত আলম পেয়াশা (গ্রেড–১০) এবং সামারা ইসলাম (গ্রেড–৭)।

সভাপতির বক্তব্যে এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল মিরপুর-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অ্যান্ড হেড অব স্কুল মোহাম্মদ আনিসুর রহমান সোহাগ বলেন, আজকের এই গ্র্যাজুয়েশন কেবল একটি সনদ অর্জনের অনুষ্ঠান নয়; এটি একটি শিশুর জ্ঞান, চরিত্র, ঈমান ও আত্মবিশ্বাস গঠনের যাত্রার প্রথম আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষা শুধু একটি সফল পেশাজীবন গড়ার জন্য নয়; বরং একজন সৎ, মানবিক, দায়িত্বশীল এবং আল্লাহভীরু মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠার জন্য।

ইত্তেফাক/এসএএস