আগাম ভিসা ছাড়া যাওয়া যাবে না কেপ ভার্দে

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৬, ১৮:৩৪

যুক্তরাজ্যভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের সাম্প্রতিক সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশি পাসপোর্টের বৈশ্বিক অবস্থান এখন ৯৬তম । এই র‍্যাংকিং অনুযায়ী বাংলাদেশের নাগরিকেরা আগাম ভিসা ছাড়া বিশ্বের ৩৬টি গন্তব্যে ভ্রমণের সুবিধা পান। তবে একই তালিকায় স্থান পেয়েছে আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দেও। সম্প্রতি ফুটবল বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে তারা।

তবে কেপ ভার্দের সরকারি তথ্য ভিন্ন কথা বলছে। দেশটির সরকারি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৯১টি দেশের নাগরিকদের কেপ ভার্দের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ, ট্রানজিট বা বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতির আগে অবশ্যই ভিসা নিতে হবে। অর্থাৎ, বর্তমানে বাংলাদেশি নাগরিকেরা আগাম ভিসা ছাড়া কেপ ভার্দে ভ্রমণ করতে পারবেন না। ভিসা ছাড়া পৌঁছালে দেশটিতে প্রবেশ, ট্রানজিট বা যাত্রাবিরতির অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে।

সরকারি নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় ভিসা সংগ্রহের জন্য আবেদনকারীদের নিজ দেশের নিকটতম কেপ ভার্দের দূতাবাসে যোগাযোগ করতে হবে।

পর্যটকদের মতে, হেনলি পাসপোর্ট সূচক আন্তর্জাতিক ভ্রমণসংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হলেও বিভিন্ন দেশের ভিসানীতির পরিবর্তন সেখানে হালনাগাদ হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তাই বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে সর্বশেষ ভিসানীতি যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

বাংলাদেশে কেপ ভার্দের কোনো দূতাবাস নেই। ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের সাধারণত তৃতীয় কোনো দেশে অবস্থিত কেপ ভার্দের দূতাবাস থেকে ভিসা সংগ্রহ করতে হয়।

২০২৪ সালে কেপ ভার্দে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে ভিসা নিয়েছিলেন পর্যটক কাজী আসমা আজমেরী। সেনেগাল সফরের সময় সেখানকার কেপ ভার্দের দূতাবাস থেকে তিনি ছয় মাসমেয়াদি ভিসা সংগ্রহ করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত দেশটিতে যাওয়া হয়নি।

আসমা আজমেরী বলেন, ‘আমার মালি হয়ে কেপ ভার্দে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু মালিতে গিয়ে আটকে যাই। জ্বালানিসংকটের কারণে অনেক ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়। কয়েক দিন মালিতে অবস্থানের পর শেষ পর্যন্ত ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তন করে কেপ ভার্দে যাওয়া বাতিল করি। তবে আবার যাওয়ার পরিকল্পনা আছে।’

Best Of Cape Verde's Landscape & Scenery

আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে ছড়িয়ে থাকা কয়েকটি আগ্নেয় দ্বীপ নিয়ে গড়ে উঠেছে কেপ ভার্দে। মাত্র ছয় লাখের কিছু বেশি মানুষের এই দ্বীপরাষ্ট্র আয়তনে ছোট হলেও ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। সমুদ্রসৈকত, আগ্নেয়গিরি, ক্রেওল সংস্কৃতি ও সংগীতের জন্য দেশটি পর্যটকদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশ থেকে কেপ ভার্দেতে সরাসরি কোনো ফ্লাইট নেই। সাধারণত ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে প্রথমে ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবায় গিয়ে সেখান থেকে সেনেগাল হয়ে কেপ ভার্দে পৌঁছানো যায়। এ ছাড়া পর্তুগালসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মাধ্যমে ট্রানজিট নিয়েও দেশটিতে ভ্রমণ করা সম্ভব।

ইত্তেফাক/এসএইচ