সরকার দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রেখেছে

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০১৯, ২১:৩৭

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার বিশ্ব পরিমণ্ডলে মর্যাদার আসন ধরে রেখে দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রেখেছে। এটা সম্ভব হয়েছে দেশের জনগণের কল্যাণে আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে। তাই সরকার এই মর্যাদার আসন ধরে রাখতে চায়। সোমবার পবিত্র ঈদুল আজহার দিন সকালে গণভবনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের  নেতা-কর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পদস্থ কর্মকর্তা, কবি, সাহিত্যিক,  লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী এবং বিভিন্ন  শ্রেণিপেশার মানুষসহ সাধারণ জনগণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে         প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই মাথা উঁচু করেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।’ জনগণের সুখী ও সমৃদ্ধ জীবন নিশ্চিত করার বিষয়ে তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ দেশের মানুষ যেন সর্বত্র মর্যাদা পায়, সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য।’ তিনি এ সময় তার ও আওয়ামী লীগের ওপর আস্থা রেখে দেশের জনগণ ভোট দিয়ে আরেকবার তাদের দেশসেবার সুযোগ দেওয়ায় দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা এ দেশের মানুষের জন্য নিজেকে উত্সর্গ করেছিলেন। এ দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন করতে পারলে আমার বাবার আত্মা শান্তি পাবে।’

বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী দেশবাসী ও প্রবাসী বাঙালিদের ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানান। সেই সঙ্গে তিনি সমগ্র মুসলিম উম্মাকেও ঈদের শুভেচ্ছা জানান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ১৫ আগস্টের শহিদসহ মুক্তিযুদ্ধের সব শহিদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, ‘ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত ঈদ আমাদের যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করার প্রেরণা দেয়।’ এ সময় যারা হজ করতে গেছেন, তাদেরও ঈদের শুভেচ্ছা জানান তিনি। একই সঙ্গে সবার দোয়াও কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি নিজের চোখের ছানি অপারেশনসহ নানা প্রসঙ্গ টেনে সবার দোয়া চান শেখ হাসিনা।

পবিত্র ঈদুল আজহার এই দিনে গণভবনের সবুজ চত্বর বর্ণাঢ্য সাজে সজ্জিত করা হয়। বিভিন্ন বয়সের ও শ্রেণিপেশার লোকজন দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষমাণ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, সিনিয়র সাংবাদিক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী, বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ, বিভিন্ন ব্যাবসায়িক সংগঠনের  নেতৃবৃন্দ, আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের  নেতা-কর্মী এবং সাধারণ জনতার পদচারণায় এ সময় গণভবন চত্বর মুখরিত হয়ে ওঠে। অন্যান্য বছরের মতো বছরের এই বিশেষ দিনটিতে রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে অনেকেই এ সময় নিজস্ব অভাব-অভিযোগ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। প্রধানমন্ত্রী ধৈর্য ধরে তাদের অভাব-অভিযোগ শোনেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। বিচারক, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান, বিদেশি কূটনীতিক, সিনিয়র সচিব এবং সচিব মর্যাদার অন্যান্য বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গেও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর

ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তার শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসেবে রাজধানীর মোহাম্মদপুরস্থ গজনবী রোডে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন কেন্দ্রে (মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের ফুল, ফলমূল এবং মিষ্টান্ন পাঠান। সোমবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মশিউর রহমান হুমায়ুন, উপ-প্রেস সচিব শাখাওয়াত মুন, প্রটোকল অফিসার এস এম খুরশীদ-উল-আলম ও সহকারী কর্মকর্তা মোহম্মদ আরিফুজ্জামান নূরনবী প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে এগুলো পৌঁছে দেন।

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যরা এ সময় প্রতিটি রাষ্ট্রীয় দিবস ও উত্সবে তাদের স্মরণ করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

এক মাথার যমজ শিশু রাবেয়া-রোকেয়াকে  দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবার দুপুরে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচে) চিকিত্সাধীন জোড়া লাগানো এক মাথার যমজ শিশু রাবেয়া-রোকেয়াকে দেখতে গিয়েছিলেন। তিনি তাদের সার্বিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন।

প্রধানমন্ত্রী পরে ঢাকা সিএমএইচে চিকিত্সাধীন প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদিনকে দেখতে যান। এ সময় সেখানে  সেনাপ্রধান  জেনারেল আজিজ আহমেদসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিত্সাধীন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির স্বামী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট তৌফিক নাওয়াজকে দেখতে যান এবং তার চিকিত্সার খোঁজ-খবর নেন