রাজধানীসহ সারাদেশে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৮৮০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। মোট ভর্তি রোগীর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ৭৫৫ এবং ঢাকার বাইরে ১ হাজার ১২৫ জন ভর্তি হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকার চেয়ে ঢাকার বাইরেই বেশিসংখ্যক ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোলরুম সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
ঈদের ছুটির তিন দিন ও গতকাল মিলে চার দিনে সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আট জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীতে তিন জন এবং ঢাকার বাইরে চার জন। ঢাকার বাইরে মাদারীপুর, খুলনা, লালমনিরহাট ও কুমিল্লায় এক জন করে মারা গেছে। চিকিত্সকেরা বলছেন, গত দুই দিনে বৃষ্টির কারণে ডেঙ্গুর অনেক লার্ভা ভেসে গেছে। বৃষ্টি থেমে গেলে আবারও ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যেতে পারে বলে ধারণা তাদের।
গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৩ আগস্ট সকাল ৮টা থেকে ১৪ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট নতুন রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৮৮০ জন। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকার ভেতরে রোগীর সংখ্যা ৭৫৫ আর ঢাকার বাইরে রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ১২৫ জন। এদিকে ১২ থেকে ১৩ আগস্ট রোগীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২০০ জন। এর মধ্যে ঢাকার ভেতরে ছিল ৫৯৯ জন আর ঢাকার বাইরে ছিল ৬০১ জন। রোগীর সংখ্যা কমছে কি না—এ প্রশ্নে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা বলেন, কেবল এক দিনের হিসাব থেকে আমরা সিদ্ধান্তে আসতে চাই না এবং সেটা সম্ভবও নয়। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক তাহমিনা এসব কথা বলেন। সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ডেঙ্গুবিষয়ক কর্মসূচির প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. এম এম আক্তারুজ্জামান, হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার।
অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা বলেন, বর্তমানে দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে মোট ভর্তি থাকা রোগীর সংখ্যা ৭ হাজার ৮৬৯। এর মধ্যে ঢাকার ৪০টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে আছে ৪ হাজার ১৪৩ জন আর ঢাকার বাইরে আছে ৩ হাজার ৭২৬ জন। ডেঙ্গুতে এ পর্যন্ত মোট ৪০ জন মারা গেছে বলে জানাচ্ছে কন্ট্রোলরুম। এর মধ্যে এপ্রিলে দুই জন, জুনে চার জন, জুলাই মাসে ২৪ জন এবং চলতি আগস্ট মাসে ১০ জন। তবে চলতি মাসের ১৪ তারিখ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ২৭ হাজার ৮৯০ জন আর গত জুলাই মাসে মোট আক্রান্ত হয়েছিল ১৬ হাজার ২৫৩ জন।
