ভোলায় স্কুলছাত্রী গণধর্ষণ মামলার ২ আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০১৯, ২১:৪৫

ভোলায় স্কুলছাত্রী গণধর্ষণ মামলার দুই আসামি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে মঙ্গলবার এই ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দ আহম্মেদের ছেলে আল আমিন (২৭) ও কামাল মিস্ত্রির ছেলে মঞ্জুর আলম (২৫)।

ভোলা মডেল থানার ওসি ছগির মিয়া জানান, মঙ্গলবার রাতে রাজাপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ রাজাপুর এলাকায় স্কুলছাত্রী গণধর্ষণ মামলার আসামিদের ধরতে গেলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশ পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে ঐ দুই আসামি নিহত হয়। ওসি আরো জানান, এদের বিরুদ্ধে মাদকসহ একাধিক মামলা              রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বন্দুক, একটি গুলি ও দুটি রামদা উদ্ধার করেছে।

স্কুলছাত্রীটির পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের এক কৃষক ঈদ উপলক্ষ্যে তার আদরের দুই মেয়ের জন্য বাজার থেকে মেহেদি কিনে আনেন। ঈদের আগের দিন সন্ধ্যার দিকে তাদের বাবা গরু বিক্রির টাকা আনতে ভোলা শহরে যান। রাত ৮টার দিকে দুই বোন প্রতিবেশী মাহফুজের স্ত্রীর কাছে হাতে মেহেদি দিয়ে সাজতে যায়। ওই সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা মাহফুজের ঘরের ভাড়াটিয়া আল আমিন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া ঐ স্কুলছাত্রীকে ডেকে তার ঘরে নিয়ে যায়। এ সময় আল আমিনের স্ত্রী ঘরে ছিল না। এই সুযোগে ঐ ছাত্রীকে আল আমিন ও তার সহযোগী মঞ্জুর আলম হাত-পা ও মুখে কাপড় বেঁধে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। পরে ছাত্রীর চিত্কার শুনে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মুমূর্ষু অবস্থায় ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে ঐ ছাত্রীকে সোমবার বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে বুধবার দুপুর ১২টায় পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, মঙ্গলবার রাতে ভোলা থানার একটি মোবাইল টিম রাজাপুরের জনতা বাজার এলাকায় টহল দেওয়ার সময় খবর পায় যে মেঘনার তীরে দুই দল জলদস্যু গোলাগুলি করছে। টহল পুলিশ সেখানে গেলে জলদস্যুরা তাদের ওপর গুলি ছোড়ে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পালটা গুলি করে। এ সময় একটি ট্রলারে করে জলদস্যুরা পালিয়ে যায়। পরে তল্লাশি করে সেখানে দুটি লাশ পাওয়া যায়। লাশ হাসপাতালে নেওয়ার পর শনাক্ত হয় যে তারা ঐ গণধর্ষণ মামলার আসামি।