ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমকে দিনভর অবরুদ্ধ করে রেখেছেন শত শত শিক্ষক ও কর্মচারী। ওই কর্মকর্তা স্ট্যান্ড রিলিজের খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাকে অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটে।
বুধবার (৮ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শত শত সহকারী শিক্ষকের কাছ থেকে বদলির কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া ও দপ্তরিদের গত ৩ মাসের বেতন আত্মসাতের অভিযোগে তারা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। এসময় ভাঙ্গার ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান প্রায় ১০ লাখ টাকা বাকি থাকায় তারা এই অবরুদ্ধে যোগ দেন। এসময় তারা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে।
পরে দুপুরের দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান আন্দোলনকারী সাথে বসে তাদের শান্ত করেন।
জানা গেছে, গত ৭ জুলাই উপসচিব সাখাওয়াত হোসেন সরকার সাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে অনতিবিলম্বে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কর্মস্থল থেকে খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙা উপজেলায় যোগাদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সংবাদ ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে যার যার টাকা ফেরত পেতে সকাল থেকেই শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় জড়ো হতে থাকে। দুপুরে শত শত শিক্ষক ও কর্মচারীরা এক পর্যায়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে।
শিক্ষক সমিতির ভাঙ্গা উপজেলা শাখার সভাপতি শিক্ষক শামছুল আলম বলেন, ভাঙ্গা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষক বদলি বাণিজ্য, ভুয়া নিয়োগে দপ্তরি নিয়োগ ও তাদের নামে কোটি কোটি টাকা উত্তোলন, উপজেলার ২০টির বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টেন্ডারবিহীন নিজ ক্ষমতায় বিক্রি, শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য অতিরিক্ত ঘর নির্মাণের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যাংকে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নামের অ্যাকাউন্টে বরাদ্দকৃত টাকা না রেখে তার নিজ অ্যাকাউন্টে টাকা জমা রাখা, সিনিয়র শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণসহ তার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, তার (জাহাঙ্গীর আলম) অন্যতম সহযোগী চাকুরিচ্যুত প্রধান শিক্ষক ও তার কারণে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে ভাঙ্গা উপজেলার শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শত শত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা আজ জিম্মি হয়ে পড়েছে। তার দুর্নীতির মাত্রা সীমা অতিক্রম করায় আজ সবাই আন্দোলন করছে। আমাদের ইউএনও মহোদয় আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে তিনি এর উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম অবরুদ্ধ ও শিক্ষক কর্মচারীদের আন্দোলনের সংবাদ পেয়ে আমি দ্রুত উভয় পক্ষকে ডেকে পরিবেশ শান্ত করেছি। শিক্ষা কর্মকর্তার প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে আমি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও স্থানীয় ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করেছি। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে একটি পক্ষ এই কাজ করেছে। আমার বদলির খবরে কিছু পাওনাদারকে আমার বিরুদ্ধে লেলিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ দিয়েছে।

