মহারাষ্ট্র, ভারত

জোর করে পুত্রবধূকে গোমূত্র পান করানোয় সাবেক এমপির বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৬, ১৪:১৯

ভারতের মহারাষ্ট্রে সাবেক সংসদ সদস্য বিনায়ক রাউত ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কুসংস্কার চর্চা এবং গৃহনির্যাতনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। তার পুত্রবধূ গিরিজা রাউতের অভিযোগ, তাকে জোর করে গোমূত্র পান করানো, তান্ত্রিক আচার পালনে বাধ্য করা এবং দীর্ঘদিন মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থানে জেলার এই ঘটনায় পুলিশ বিনায়ক রাউত, তার স্ত্রী, ছেলে ও স্থানীয় কাউন্সিলর গীতেশ রাউতের বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্রের কুসংস্কারবিরোধী আইনে মামলা করেছে। অভিযোগপত্রে ফিরোজ ও কাজি নামে কথিত দুই তান্ত্রিকের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গিরিজা রাউতের অভিযোগ, বিয়ের পর গত সাত বছর ধরে তিনি নিয়মিত মানসিক, সামাজিক ও আবেগগত নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার দাবি, স্বামীর কথিত বন্ধ্যাত্বজনিত সমস্যার সমাধানের নামে তাকে বারবার তান্ত্রিকদের কাছে নিয়ে যাওয়া হতো। এক পর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক গোমূত্র পান করানো হয় এবং কুসংস্কারমূলক আচার পালনের অংশ হিসেবে মাথা থেকে চুলও ছিঁড়ে নেওয়া হয়।

সাংবাদিকদের কাছে তিনি বলেন, প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের বিরুদ্ধে এতদিন অভিযোগ করার সাহস পাননি। পরিবারের প্রধান হওয়া সত্ত্বেও শ্বশুর বিনায়ক রাউত কখনো তার পক্ষে অবস্থান নেননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

গিরিজা আরও দাবি করেন, বিয়ের পর উটির হানিমুনে গেলেও তার স্বামী শারীরিক সম্পর্ক এড়িয়ে চলেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তাকে অপমান ও দূরে সরিয়ে দেওয়া হতো। এমনকি স্বামী তাকে বলেছিলেন, ভারতের বাইরে কোনো দেশে গেলেই কেবল তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক সম্ভব।

এ ছাড়া পারিবারিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে অপমান, নিয়মিত মানসিক চাপ সৃষ্টি এবং মারধরের অভিযোগও করেছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরেও একই ধরনের আচরণের শিকার হন। সে সময় তাঁকে বলা হয়েছিল, তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হলে তার স্বামীর মৃত্যু হবে।

পুত্রবধূর অভিযোগে শুধু স্বামী নন, শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, অশালীন আচরণ এবং গৃহ-নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

 
ইত্তেফাক/এসএ