কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে চার বছরেও মেলেনি একটি ব্রিজ, বিচ্ছিন্ন দেড় হাজার পরিবার

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৫১

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের চরগোরকমন্ডল এলাকায় বন্যার স্রোতে ধসে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ কালভার্ট চার বছরেও পুনর্নির্মাণ বা সংস্কার হয়নি। ফলে প্রায় দেড় হাজার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বসবাস করছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও কর্মজীবী মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের চরগোরকমন্ডল আনন্দবাজারের দক্ষিণ পাশে প্রায় চার বছর আগে ধরলা নদীর প্রবল স্রোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কালভার্ট ধসে পড়ে। একই সঙ্গে সড়কের প্রায় ১৫০ ফুট অংশ ভেঙে বড় গর্তে পরিণত হওয়ায় ওই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কালভার্টটি এলাকার প্রধান যোগাযোগপথ হওয়ায় মোটরসাইকেল, ভ্যান, অটোরিকশাসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করেই চলাচল করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। বর্ষা মৌসুমে অনেককে কোমরসমান পানি পেরিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয় ও কলেজে যাওয়া, কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করা এবং জরুরি রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

চরগোরকমন্ডল ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আয়াজ উদ্দিন বলেন, ধরলা নদীর তীব্র স্রোতে কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই প্রায় দেড় হাজার পরিবারের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। শুষ্ক মৌসুমে কিছুটা স্বস্তি মিললেও বর্ষা এলেই দুর্ভোগ ভয়াবহ রূপ নেয়। তিনি বলেন, চার বছরেও একটি সেতু নির্মাণ না হওয়ায় তিনি নিজেও লজ্জিত ও হতাশ।

নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাছেন আলী জানান, ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে নির্মিত কালভার্টটি চার থেকে পাঁচ বছর আগে ভয়াবহ বন্যায় ধসে যায়। এরপর থেকে ওই এলাকার বাসিন্দা ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি সত্ত্বেও এখনো স্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

এ বিষয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলারা আক্তার বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

 

ইত্তেফাক/এসএ