উপসাগরীয় তিন দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পালটা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৬, ১৭:৩৩

ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন বিমান হামলা ও নৌ-অবরোধের জবাবে উপসাগরীয় তিন দেশের মার্কিন ঘাঁটিতে বুধবার (১৫ জুলাই) পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে মার্কিন আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ 'হরমুজ প্রণালি' সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই হামলা-পালটা হামলার ঘটনা ঘটল।

এই সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ইতোমধ্যে ১০ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, নতুন মার্কিন অবরোধের কারণে তাদের তেল ও গ্যাস রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় তারা মার্কিন মিত্রদের তেল সরবরাহের পথও বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, এই অঞ্চলের তেল-গ্যাস রপ্তানি হয় সবার জন্য খোলা থাকবে, নয়তো কারো জন্যই থাকবে না।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেছেন, মার্কিন এই অবরোধ গত মাসে ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তি ‘ইসলামাবাদ স্মারক’-কে পুরোপুরি ভেঙে দিয়েছে।

সংঘাতের পঞ্চম দিনে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের উপকূলবর্তী ও প্রণালির কাছাকাছি এক ডজনেরও বেশি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে তারা। ইরানের গণমাধ্যমগুলো বন্দর নগরী বন্দর আব্বাস, কিশ দ্বীপ এবং বন্দর ইমাম খোমেনিতে বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন হামলার পরপরই বাহরাইনে সাইরেন বেজে ওঠে। কুয়েত ও জর্ডান তাদের আকাশসীমায় ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে। তবে ইরানি সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, জর্ডানের মার্কিন বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইন-কুয়েতের মার্কিন স্থাপনায় সফল ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান যদি আলোচনায় না বসে তাহলে আগামী সপ্তাহে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোতে আরও বড় আকারের হামলা চালানো হবে।

সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা করেছে। এতে অন্তত ১২ জন বেসামরিক নাবিক নিহত, নিখোঁজ বা আহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার ওমান উপকূলে একটি নরওয়েজিয়ান ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটে এবং কুয়েতের একটি নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে, মার্কিন হামলায় ইরানে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন।

এদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইসরাইলে কোনো হামলা হলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দিমোনা শহর থেকে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, আমাদের ওপর হামলা করে কেউ পার পেয়ে যাবে সেই দিন শেষ হয়ে গেছে।

সূত্র: আল আরাবিয়া

 

ইত্তেফাক/এবিএস