নানা অজুহাতে অপরিকল্পিতভাবে অবৈধ এবং অবাধ বালু উত্তোলন, স্রোত ও ট্রলার চলাচলে ঢেউয়ের আঘাতে ভাঙছে কুমার নদের পাড়, গৃহহারা হয়ে দিশাহারা নদের পাড়ের মানুষ। এ বর্ষা মৌসুমে এরই মধ্যে পাঁচটি গ্রামের ২৫/৩০ বাড়ি ভেঙে পড়েছে নদীগর্ভে। আরো মসজিদসহ শতাধিক বাড়িঘর রয়েছে ঝুঁকির মুখে। এ চিত্র মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কুমার নদের পাড়ে বসবাসকারী চারটি ইউনিয়নের ১২টি গ্রামের। এছাড়াও প্রায় দুশ পরিবার বাড়িঘর হারানোর শঙ্কা নিয়ে বসবাস করছে। এরই মধ্যে কয়েকশ পরিবার বাড়িঘর হারিয়ে অন্যত্র চলে গেছে। হয়েছে বাপ-দাদার ঠিকানা পরিবর্তন। নদীভাঙন রোধে পরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি এলাকাবাসীর।
কবিরাজপুর ইউনিয়নের গুজেরকান্দি গ্রামে কুমার নদে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই বাড়িঘর, গাছপালা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এ প্রতিবেদক সরেজমিনে নদ পরিদর্শনে গেলে গৃহহারা নুরু হাওলাদার, আক্কাছ হাওলাদার ও এলেজা বেগমসহ ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীরা জানায়, নদী ভাঙতে ভাঙতে এল আকৃতির বাক সৃষ্টি হয়েছে। তাই স্রোত এসে সরাসরি আঘাত করে । ফলে ভাঙন তীব্রতর হয়ে ওঠে। অন্যদিকে রয়েছে নদীভাঙনের অনুষঙ্গ:“সারা বছরব্যাপী বালুদস্যুদের অপতত্পরতা।” সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে চলে বালুদস্যুদের লুকোচুরি খেলা।
কবিরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান টিপু সুলতান জানান, এ অংশে পরিকল্পিভাবে ভাঙন রোধ করা না হলে বহু বাড়িঘর, মসজিদসহ কবিরাজপুরে ১৭ কোটি টাকায় নবনির্মিত ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালসহ অন্যান্য মূল্যবান স্থাপনাও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শংকরদী গ্রামের ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এমারত ফকির জানান, আমি ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাই। গতবছর এখান থেকে জোর করে বালু কেটে নিয়ে গেছে বালু ব্যবসায়ীরা। এ বছর আমার বাড়িসহ চারটি পরিবারের বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেল। এখন আমি কিভাবে বাঁচবো এবং মাথা গোঁজার ঠাঁই কিভাবে বানাবো।
চরমস্তফাপুর গ্রামের হায়দার হাওলাদার জানান, চরমস্তফাপুর বাজারসহ মসজিদ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
মল্লিককান্দি শাখারপাড় গ্রামের হাসান মাতুব্বর জানান, গতবছরেও বাড়িঘর ভেঙেছে, এ বছরও ভয়াবহরূপ। এ বছর যেভাবে বালু কাটা হচ্ছে তাতে আগামী বছর আরো বহু বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। মেবানকান্দির লাবলু মুন্সী জানান, তার ৩৩ শতক জায়গায় রোপিত গাছ বাগান, আলমগীরের বাড়ি তিনটি ঘর নদী খেয়ে ফেলেছে। কালিবাড়ী এলাকার কালাম মাতুব্বর জানান, বিশ্বাম্বরদী, নিলাম্বরদী, মহেন্দ্রদী, হরিদাসদী, মল্লিককান্দি, গাংকান্দি, শংকরদী, কালিবাড়ী, চরমস্তফাপুর বাজার এলাকা ব্যাপকভাবে ভাঙছে।
গোয়ালবাথান এলাকার বায়েজিদ মেম্বার জানান, ইতিপূর্বে টেকেরহাট-হরিদাসদী রাস্তার গোয়ালবাথান নামক স্থানটি একরাতেই ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। একবছর পার হলেও পুনঃনির্মাণ হয়নি। এ বছরও আবার ভাঙছে। নদীতে পানি টান দিলে (কমলে) আরো ব্যাপক ভাঙন দেখা দেবে। ইশিবপুর ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ফায়েজুর রহমান হিরু জানান, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ ও ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।
জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম জানান, ভাঙনের বিষয়ে ইউএনও আমাকে রিপোর্ট করলে আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জানাবো।
