নিকলী পোস্ট অফিস ও কৃষি ব্যাংকসহ প্রায় ৫ হাজার মানুষ সাত মাস ধরে পানিবন্দি

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০১৯, ২১:২১

নিকলীতে পুকুর ভরাট করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না রেখে মার্কেট করায় ছয় মাস ধরে পানিবন্দি নিকলী পোস্ট অফিস, কৃষি ব্যাংক ও এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ। মুখ থুবড়ে পড়েছে অফিসিয়াল কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠান দুটিতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি চরম ভোগান্তিতে রয়েছে সেবা গ্রহীতা ও এলাকাবাসী।

জানা যায়, নিকলী উপজেলা সদরের পুকুরপাড়, বড়হাটি, কামারহাটি বানিয়াহাটিসহ চার গ্রামের বৃষ্টির পানি নিষ্কাশিত হতো কামারের তালাব নামের পুকুরটিতে। পুকুরটির মালিক ছিল আ. জব্বার মাস্টার ও ক্ষিতিশ চন্দ্র কর্মকার মাস্টার। গত কয়েক বছর আগে বালু ফেলে উঁচু করে পুকুরটি ভরাট করে দুজনই মার্কেট করে। যা উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে অবস্থিত। পুকুরটির পশ্চিম পাশের সড়কের পাশে উপজেলা পোস্ট অফিস ও কৃষি ব্যাংকের নিকলী শাখা।

এই সড়কটি উপজেলা সদরের পশ্চিম অংশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার মানুষের চলাচলের পথও। পুকুরপাড় জামে মসজিদের বেশিরভাগ মুসল্লিও এই সড়কটিই ব্যবহার করেন। সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটু সমান ময়লা পানি জমে রাস্তা তলিয়ে যায়। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় দেখা দেয় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা। গত ছয় মাস ধরে চলছে এই জলাবদ্ধতা। বর্ষা বা অতিবৃষ্টির কারণে উপজেলা ভূমি অফিসসহ থানা, জেলা পরিষদ ডাক বাংলো ও নিকলী পুরান বাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রধান সড়ক উপচে যাচ্ছে পানি। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে প্রধান সড়কটিতেও মারাত্মক ধস নেমেছে।

নিকলী শহীদ স্মরণিকা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী হাজরা মোমেন প্রভা জানায়, এই রাস্তাটি দিয়ে স্কুলে যেতে কাদা আর ময়লা পানিতে কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। নিকলী শহীদ স্মরণিকা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাফিউদ্দিন বলেন, স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কৃষি ব্যাংকের গ্রাহক আ. জলিল বলেন, ব্যাংক ও পোস্ট অফিস দুটি দ্বীপ এলাকায় পরিণত হয়েছে। ময়লার পানি মাড়িয়ে কাজ করতে হয়। বয়স্কভাতাপ্রাপ্ত অনেক মুমূর্ষু ব্যক্তি হামাগুড়ি দিয়ে ব্যাংকটির সেবা নিতে হচ্ছে।

নিকলী উপজেলা পোস্ট মাস্টার (ভারপ্রাপ্ত) মো. নুরুজ্জামান ভূইয়া জানান, নিত্য কাদাজল পেরিয়ে অফিস যেতে আসতে পায়ে ঘা হয়ে গেছে। এখন ১০ ফুট রাস্তা রিকশায় চড়ে কোনো রকমে অফিসের সীমানায় পৌঁছি। নিত্য গ্রাহকদের কথা শুনতে হচ্ছে।

কৃষি ব্যাংকটির নিকলী শাখা ব্যবস্থাপক মো.সাদিকুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা চলছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। ভবন মালিক পক্ষকেও বলছি। শিগগিরই এই সমস্যার সমাধান না হলে আমরা অন্য ভবন দেখবো। নিকলী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কারার শাহরিয়ার আহমেদ তুলিপ বলেন, আমি কয়েকদফা দুই মালিক পক্ষ ও এলাকাবাসীকে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে বসেছি। কিন্তু তারা কেউ ড্রেন করার জায়গা দিবে না। নিকলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুছাম্মত্ শাহীনা আক্তার বলেন, আমি একাধিকবার পরিদর্শন করেছি। রাস্তাটির পাশে নালা তৈরির জায়গা নেই। মালিক দুই পক্ষ জায়গা দিচ্ছে না। চেষ্টা করছি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের।