শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ১২ কিলোমিটার অংশের সংস্কার কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। সড়কে বড়ো বড়ো গর্ত থাকায় প্রায়ই গাড়ি আটকে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঐ সড়কের ১২ কিলোমিটারের মধ্যে পাঁচ কিলোমিটার অংশ বিটুমিনের পরিবর্তে ইট দিয়ে ও বাকি সাত কিলোমিটার বিটুমিন দিয়ে পাকা করা হবে বলে জানা গেছে।
শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) সূত্র জানায়, শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়কের সদর উপজেলার মনোহর বাজার হতে ভেদরগঞ্জের নরসিংহপুর (আলুর বাজার) ফেরিঘাট পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা নাজুক ছিল দীর্ঘ দিন থেকে। গত বছর এপ্রিল হতে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।
সওজ সূত্র আরো জানায়, মনোহর বাজার হতে নারায়ণপুর পর্যন্ত ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫ কিলোমিটার সংস্কার করা হয়েছে। একই সাথে নারায়ণপুর থেকে আলুর বাজার পর্যন্ত ১২ কিলোমিটারের জন্য একজন ঠিকাদার নিযুক্ত করা হয়, কিন্তু ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি আর কাজটি করতে আগ্রহী হননি। তখন পুনরায় দরপত্র দিয়ে ইউনুছ এন্ড ব্রাদার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে গত বছর ২৬ আগস্ট কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। ঐ ১২ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করার জন্য ১৫ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। ইউনুছ এন্ড ব্রাদার্স জানুয়ারি পর্যন্ত সড়কের ২৫ শতাংশ কাজ করে ফেলে রাখে। তারা সড়কের ঐ অংশের ছোটো-বড়ো গর্তগুলো বালু ও ইট দিয়ে ভরাট করে দেয়। এ বাবাদ প্রতিষ্ঠানটি ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা বিল উত্তোলন করে নেয়।
শরীয়তপুর সওজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. অহিদুজ্জামান বলেন, এই সড়কটি বর্তমানে ১৮ ফিট চওড়া। এটাকে দুই লেনে ২৪ ফিট চওড়া করা হবে। সড়কটির জন্য গত ফেব্রুয়ারিতে আট‘শ ৫৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হয়েছে। ঐ বড়ো প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে এ কারণে এখন বেশি টাকার প্রকল্প এ সড়কে দেওয়া হবে না। যার কারণে ঐ ১২ কিলোমিটারের পাঁচ কিলোমিটার ইট দিয়ে ও সাত কিলোমিটার বিটুমিন দিয়ে সংস্কার করা হবে।
সাতক্ষীরা-চট্টগ্রাম পথের ট্রাক চালক মিজানুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন যাবত্ ভোগান্তি নিয়ে সড়কটিতে চলাচল করছি। প্রায়ই গর্তে গাড়ি আটকে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আমাদের দিনের পর দিন সড়কে আটকা থাকতে হয়। এখন শুনতেছি ইট দিয়ে সড়ক মেরামত করা হবে। ঐ ইটের ওপর দিয়ে অধিক বোঝাই গাড়ি নিয়ে যাওয়া কষ্টকর হবে। কিছু দিন পর আবার ইট দেওয়া স্থানে গর্ত হয়ে যাবে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পাবেল মুন্সি বলেন, সড়কটির অবস্থা খুবই নাজুক। এখানে কিছু অংশে বিটুমিনের কাজ করা সম্ভব নয়। তাই কজটি বন্ধ রয়েছে। ঐ সড়কের পাঁচ কিলোমিটার ইটের হেরিংবন্ড করা হবে। এ জন্য এস্টিমেট করা হচ্ছে। এস্টিমেট চূড়ান্ত হলেই আমরা কাজ শুরু করব।
শরীয়তপুর সওজের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার শরিফুল আলম বলেন, সড়কটির ১২ কিলোমিটার অংশর মধ্যে অন্তত পাঁচ কিলোমিটার বিটুমিনের কাজ করা যাচ্ছে না। এ কারণে কিছু জটিলতা আছে। শিঘ্রই জটিলতা নিরসন হবে।
