এয়ার ফ্রায়ারে রান্না করলে কি খাবারের পুষ্টিগুণ কমে যায়?

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৬, ১৮:৫৫

স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের রান্নাঘরে এখন এয়ার ফ্রায়ার বেশ জনপ্রিয়। কম তেলে মুচমুচে খাবার তৈরি করা যায় বলে অনেকেই এটি ব্যবহার করছেন। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন—এয়ার ফ্রায়ারে রান্না করলে কি খাবারের পুষ্টিগুণ কমে যায়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর উত্তর হলো না। বরং অনেক ক্ষেত্রে এয়ার ফ্রায়ারে রান্না করলে খাবারের পুষ্টিগুণ তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে সংরক্ষিত থাকতে পারে।

কেন জনপ্রিয় হচ্ছে এয়ার ফ্রায়ার?
এয়ার ফ্রায়ার গরম বাতাসের প্রবাহের মাধ্যমে খাবার রান্না করে। ফলে ডুবো তেলে ভাজার প্রয়োজন হয় না। এতে অল্প তেলেই খাবারের বাইরের অংশ মুচমুচে এবং ভেতরের অংশ নরম থাকে। পাশাপাশি রান্নার সময় ও তাপমাত্রা নির্ধারণ করে দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রান্না সম্পন্ন হয় এবং খাবার পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও কম থাকে।

পুষ্টিবিদদের মতে, কম তেল ব্যবহারের কারণে এয়ার ফ্রায়ারে তৈরি খাবারে ক্যালোরির পরিমাণও তুলনামূলক কম থাকে। এছাড়া কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এই পদ্ধতিতে রান্না করা সবজিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উল্লেখযোগ্য অংশ সংরক্ষিত থাকতে পারে।

গ্যাসের চুলায় রান্না কি কম স্বাস্থ্যকর?
গ্যাসের চুলায় রান্না বহুদিনের পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি। এতে ভাজা, কষানো, ভাপে রান্না কিংবা বিভিন্ন ধরনের পদ তৈরি করা যায়। তবে গ্যাসের চুলায় রান্না করলেই খাবারের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়—এমন ধারণা সঠিক নয়। আসলে খাবারের পুষ্টিমান নির্ভর করে রান্নার সময়, তাপমাত্রা এবং রান্নার পদ্ধতির ওপর।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সবজি ভাপে রান্না করলে ভিটামিন সি তুলনামূলকভাবে বেশি অক্ষুণ্ণ থাকে। তবে দীর্ঘ সময় পানিতে সেদ্ধ করলে পানিতে দ্রবণীয় কিছু ভিটামিন পানির সঙ্গে বেরিয়ে যেতে পারে।

আবার ব্রকোলি ও পালংশাকের মতো কিছু সবজি সঠিকভাবে রান্না করলে সেগুলোর কিছু পুষ্টি উপাদান শরীরে আরও সহজে শোষিত হয়। অন্যদিকে গাজরের মতো কিছু সবজিতে অতিরিক্ত তাপে নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিনের পরিমাণ কিছুটা কমে যেতে পারে।

পুষ্টিগুণ ধরে রাখার উপায়
বিশেষজ্ঞদের মতে, রান্নার পাত্র নয়, বরং রান্নার কৌশলই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

  • প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সময় রান্না করবেন না।
  • অতিরিক্ত তাপ এড়িয়ে চলুন।
  • কম তেল ব্যবহার করুন।
  • সম্ভব হলে ভাপানো, গ্রিল বা এয়ার ফ্রাইয়ের মতো স্বাস্থ্যকর পদ্ধতি বেছে নিন।

এয়ার ফ্রায়ারে কম সময় রান্না হওয়ায় তাপ-সংবেদনশীল কিছু ভিটামিন তুলনামূলক ভালোভাবে সংরক্ষিত থাকতে পারে। অন্যদিকে গ্যাসের চুলায় দীর্ঘ সময় রান্না করলে কিছু ভিটামিন কমে গেলেও প্রোটিন, খনিজ ও খাদ্যআঁশের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান সাধারণত অক্ষত থাকে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, এয়ার ফ্রায়ারে রান্না করলে খাবারের পুষ্টিগুণ কমে যায়—এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং স্বাস্থ্যকর রান্নার মূল চাবিকাঠি হলো কম তেল ব্যবহার, নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রা বজায় রাখা এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় খাবার রান্না না করা।

ইত্তেফাক/এসজেএস