এডিনবড়ায় আন্তর্জাতিক বাউল ও লোকসংগীত উৎসব অনুষ্ঠিত

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৬, ১৩:০৪

বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে স্কটল্যান্ডের রাজধানী এডিনবড়ায় দিনব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক বাউল ও লোকসংগীত উৎসব ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) স্থানীয় ‘দ্যা ডিন’ হলে আনন্দঘন পরিবেশে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। বিশ্বজুড়ে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের মাঝে শেকড়ের সুর ছড়িয়ে দেওয়া এবং প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালি সংস্কৃতিকে পরিচিত করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

ম্যাঞ্চেস্টারে নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার সাব্বির হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই আন্তর্জাতিক উৎসবের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে আসা প্রখ্যাত বাউল শিল্পী শফি মন্ডলসহ একঝাঁক প্রতিভাবান শিল্পী সংগীত পরিবেশন করেন। শিল্পীদের তালিকায় ছিলেন বাউল ডলি মন্ডল, বাউল সরদার হীরক রাজা, অধ্যাপক তারেক রেজা, অধ্যাপক জাহিদুল কবির ও জোহরা জেমি। এছাড়া স্থানীয় ‘ফোক পাগলা’ ব্যান্ডের আজিম মাহমুদ সুমন ও বাউল রবিন হোসাইনও তাদের সুরের মূর্ছনায় দর্শকদের মুগ্ধ করেন।

উৎসবে বাউল ও লোকসংগীত চর্চার ধারা অব্যাহত রাখা এবং স্কটল্যান্ডে বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশে ‘স্কটিশ বাউল ও ফোক কালচারাল সংস্থা’ নামে সাত সদস্যের একটি নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। শাহ ইমদাদুল হক বাবুকে এই আহ্বায়ক কমিটির প্রধান মনোনীত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, শাহ ইমদাদুল হক বাবুর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও টিম ম্যানেজার এহতাশেমুল হকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ বাউল ও ফোক কালচারাল সংস্থা প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে এই উৎসবের উদ্যোগ গ্রহণ করে।

আলাউদ্দিন আলোর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্কটল্যান্ডের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন। তাদের মধ্যে ছিলেন পিএইচসি সভাপতি আলমগীর কবির ও সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ফয়সাল চৌধুরী, স্কটিশ লেবার পার্টির সদস্য আফিফা খানম, থ্রিশল শাপলার সভাপতি ফকরুল ইসলাম এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জালাল মোড়ল। এছাড়া নারী নেত্রী শামিমা রহিমসহ সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও উৎসবে সংহতি প্রকাশ করেন।

উৎসবে সংগীতের পাশাপাশি ছিল ঐতিহ্যবাহী দেশি খাবারের স্টল। বিপুলসংখ্যক প্রবাসী নারী, পুরুষ ও শিশুদের অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠানস্থল একটি ছোটখাটো ‘মিলনমেলায়’ পরিণত হয়। বিশেষভাবে প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আয়োজকদের নজর কেড়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে ইউনেস্কো বাংলাদেশের বাউল গানকে ‘বিশ্বের মৌখিক ও বিমূর্ত ঐতিহ্য’ (ফোক কালচারাল হেরিটেজ) হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। সেই সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার ধরে রাখতে এবং বিশ্বমঞ্চে বাঙালির লোকজ ঐতিহ্যকে শক্তিশালী করতে এই ধরনের আন্তর্জাতিক ফেস্টিভ্যাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

ইত্তেফাক/এনএন