গাজীপুরের শ্রীপুরে দাম্পত্য কলহের জেরেই স্ত্রী সুমি আক্তারকে ১৫ টুকরো করে হত্যা করে ঘাতক স্বামী মামুন মিয়া। দু’জনেরই আগের সংসারে একটি করে সন্তান আছে। এ সন্তান নিয়ে উভয়ের মধ্যে কলহ লেগেই থাকতো। বৃহস্পতিবার বিকালে গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম সবুর এ কথা সাংবাদিকদের জানান। বৃহস্পতিবার দিনভর কাপাসিয়ায় বানার নদীতে ইঞ্জিন চালিত ট্রলার নিয়ে নিহত সুমির মাথাসহ দেহাবশেষ খুঁজাখোঁজি করা হয়। তবে তার দেহাবশেষের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম সবুর জানান, জিজ্ঞাসাবাদে মামুন পুলিশকে জানিয়েছে তাদের দাম্পত্য জীবনের অসহনীয় যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পেতে ৮ আগস্ট পরিকল্পনা করে। মামুন স্থানীয় বাজার থেকে ৭টি ঘুমের ওষুধ, এক’শ টাকায় একটি ধারালো ছুরি, তিনটি ব্যাগ ও কিছু পলিথিন কিনে আনে। রাতেই ৪টি ঘুমের ওষুধ হালিমের সঙ্গে মিশিয়ে সুমিকে খাওয়ানো হয়। পরে রাত একটার দিকে প্রথমে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর বাথরুমে নিয়ে গিয়ে সুমির মরদেহ ১৫টি টুকরো করা হয়। তার পর লাশের টুকরোগুলো তিনভাগে ভাগ করে শুক্রবার ভোরে ও রাতে কাপাসিয়ায় ব্রীজের উপর থেকে বানার নদীতে ফেলে দিয়ে আসে। তৃতীয় দফা লাশের খন্ড নিতে এসে সুমির স্বজনদের সঙ্গে মামুনের দেখা হয়ে যায়। এক পর্যায়ে সেখান থেকে মামুন পালিয়ে গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুরের মাধবপুর এলাকায় তার ফুফাত ভাইয়ের ভাড়া বাসায় আত্মগোপন করে। সেখান থেকেই মঙ্গলবার রাতে পুলিশ তাকে আটক করে। বুধবার মামুনকে গাজীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালতে সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। পরে বিচারক নাজমুন নাহার আসামি মামুন মিয়াকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, নিহত সুমি নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার দেবকান্দা গ্রামের নিজাম উদ্দিনের মেয়ে। তিনি শ্রীপুর উপজেলার গিলারচালা এলাকার সাবলাইম গ্রিনটেক নামের পোশাক কারখানার সুয়িং অপারেটর ছিলেন। স্বামী মামুন মিয়া গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বড়বাড়ি গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে। তারা স্বামী-স্ত্রী শ্রীপুরের গিলারচালা আসপাডা মোড় এলাকায় শফিকুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। মামুন মিয়া ওই এলাকায় ইলেক্ট্রিশিয়ানের কাজ করেন। এটি ছিল তাদের উভয়ের দ্বিতীয় বিয়ে।
