অধিকৃত পশ্চিম তীরের আল-তুওয়ানি গ্রামের আল-তাকওয়া মসজিদে আগুন দিয়েছে ইসরায়েলের বসতি স্থাপনকারীরা। রোববার মসজিদের পাশাপাশি একটি দুগ্ধজাত পণ্যের কারখানা ও দুটি বাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
রোববার (১৯ জুলাই) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, মসজিদের প্রবেশদ্বার পুড়ে গেছে এবং দেওয়ালে হিব্রু ভাষায় গ্রাফিতি স্প্রে করা হয়েছে।
গ্রাম কাউন্সিলের প্রধান মোহাম্মদ রাবি জানান, রাতের অন্ধকারে মুখোশধারী দুই ডজনেরও বেশি বসতি স্থাপনকারী মসজিদে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। তারা মসজিদের দেওয়ালে হিব্রুতে স্লোগান লিখে যায়। একই সঙ্গে আশেপাশের দুটি বাড়ি ও মাসাফের ইয়াত্তা সম্প্রদায়ের নারীদের পরিচালিত ডেইরি কারখানায়ও আগুন লাগানো হয়।
স্থানীয়রা ঘর থেকে বেরিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। গ্রামবাসী ও স্বেচ্ছাসেবকরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। এতে কোনো প্রাণহানি হয়নি বলে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন মোহাম্মদ রাবি। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।
ইসরায়েলেরে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ইবাদতখানার দরজায় ক্ষতি ও দেওয়ালে গ্রাফিতি এসব অভিযোগে তদন্ত চলছে।
তবে ফিলিস্তিনি মানবাধিকারকর্মী ওসামা মাখামরা অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর চোখের সামনেই এই হামলা হয়েছে। মসজিদের খুব কাছেই একটি ইসরায়েলের সামরিক ওয়াচটাওয়ার রয়েছে। রাবি বলেন, হামলার প্রায় আধা ঘণ্টা পর সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন।
ফিলিস্তিনের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে এটাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলে অভিহিত করে ইসরায়েলের চরমপন্থী দখলদার সরকারকে দায়ী করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, বসতি স্থাপনকারীদের এই সহিংসতা ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ এবং সংঘাতকে ধর্মীয় যুদ্ধে রূপ দেওয়ার অপচেষ্টার অংশ।
২০২৩ সালে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘের ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা সমন্বয় সংস্থা (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, বর্তমানে অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রতিদিন গড়ে ছয়টি করে এমন হামলা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ বিবেচিত এসব বসতিতে পাঁচ লাখের বেশি ইসরায়েলি বসবাস করেন। ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েল পশ্চিম তীর দখল করে রেখেছে।
সূত্র: এএফপি

