ভোলার লালমোহনে সরকারি চাল অবৈধভাবে মজুতের অভিযোগে স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে প্রশাসন। এই মামলায় এজাহারনামীয় আসামি ও চাল মজুদকারী জসিমের স্ত্রী রোকেয়া বেগমকে আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে অভিযান টের পেয়ে পালিয়েছে স্বামী।
রোববার (১৯ জুলাই) লালমোহন থানার ওসি অলিউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চাল জব্দের সময় মজুদকারী জসিম আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় তাকে আটক করা যায়নি। জসিম ছাড়াও যারা চাল আত্মসাত ও মজুদের সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তার রোকেয়া বেগম ও তার স্বামী জসিম লালমোহন উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের সাতানী এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ জুলাই উপজেলার ৬ নম্বর ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের সাতানী এলাকার মুদি দোকানদার জসিমের বসতঘর থেকে মজুদকৃত ৩৩ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করে প্রশাসন। এ ঘটনায় ১৯৭৪ সালের মজুদ আইন ২৫ এর ১ ধারা মতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা গৌরাঙ্গ দাস বাদী হয়ে মামলা করেন (মামলা নম্বর ২১)। মামলায় চাল মজুদকারী সাতানী বাজারের মুদি দোকানদার জসিম ও তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম ছাড়াও অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার দিন চাল জব্দের বিষয়টি জানার জন্য ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোস্তফা পাটোয়ারীকে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নি। এতে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
তবে ওই ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বশির আহমেদ জানান, উদ্ধার হওয়া চালের কিছুই জানা নেই।
তিনি আরও জানান, ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের এক হাজার জেলের জন্য মাথাপিছু ৭৪ কেজি করে বিশেষ ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেয় সরকার। এই চাল আরও ২ মাস আগে বিতরণ করার কথা থাকলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে টানাপোড়েনের কারণে সময়মত জেলেদের অনুকূলে এই চাল বিতরণ করা যায়নি। শনিবার সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সম্মতিতে ৫০০ জেলে মাঝে চাল বিতরণ করা হয়। বিতরণ করা চাল হয়তো কেউ গুচ্ছ আকারে মুদি দোকানির কাছে বিক্রি করে থাকতে পারে।

