দুই ফাইনালেই স্পেনের প্রতিপক্ষ পেয়েছে লাল কার্ড

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৬, ১৬:৩৪

প্রতিপক্ষের লাল কার্ড যেন স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের জন্য এক অলৌকিক সমীকরণ। ২০১০ সালের ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের জন হেইতিঙ্গা লাল কার্ড দেখার পর প্রথম বিশ্বকাপ জিতেছিল স্পেন। লাল কার্ড দেখার ঠিক পরেই গোল করে স্পেনকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন ইনিয়েস্তা। দীর্ঘ ১৬ বছর পর ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালেও একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটল। এবার নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার পর অতিরিক্ত সময়ে ফেররান তোরেস এর বাজিমাত করা গোলে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলো স্পেন।

দীর্ঘ ১৬ বছর পর মেটলাইফ স্টেডিয়ামেও ঘটল ঠিক তেমন কিছুই। ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিটের শেষ মুহূর্তে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা, আর অতিরিক্ত সময়ে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই অতিরিক্ত সময়ে ফেররান তোরেসের গোলে বিশ্বসেরার মুকুট পরে লা রোহারা। কাকতালীয়ভাবে স্পেনের উভয় বিশ্বকাপ জয়ের ফাইনালেই প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়ের লাল কার্ড দেখার এই সমাপতন ফুটবল ইতিহাসে এক বিরল আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিশ্বকাপ ফাইনালের এই উত্তাপ ও লাল কার্ডের লজ্জার ইতিহাসে কেবল আর্জেন্টিনা বা নেদারল্যান্ডস নয়, নাম রয়েছে আরও কিছু কিংবদন্তি খেলোয়াড়ের। ১৯৯০ সালের ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচে বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে প্রথম লাল কার্ড দেখার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়েন আর্জেন্টিনার পেদ্রো মনজোন। বদলি নামার মাত্র ২০ মিনিটের মাথায় ইউর্গেন ক্লিনসমানকে ফাউল করে মাঠ ছাড়েন তিনি। একই ম্যাচে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে ধাক্কা দিয়ে সতীর্থ গুস্তাভো দেজোত্তিও লাল কার্ড দেখলে ৯ জনের দলে পরিণত হয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত পশ্চিম জার্মানির কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে টানা দুটি শিরোপার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল আলবিসেলেস্তেদের।

Ex-Netherlands man reveals he 'wanted to attack' referee Howard Webb in 2010  World Cup final

এরপর ১৯৯৮ সালের ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে ফ্রান্সের ঐতিহাসিক জয়ের রাতেও লাল কার্ডের ঘটনা ঘটে। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের কাফুকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ফরাসি ডিফেন্ডার মার্সেল দেসাইলি। দশ জনের দলে পরিণত হলেও শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের বড় জয় নিয়ে শিরোপা জিতেছিল লেস ব্লুসরা।

বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে সবচেয়ে নাটকীয় ও আলোচিত লাল কার্ডের নজির ২০০৬ সালের ইতালি ও ফ্রান্সের ফাইনালে। ম্যাচ ১-১ সমতায় থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে মারকো মাতেরাজ্জির সাথে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও পরবর্তীতে তার বুকে ধাক্কা দেওয়ার কারণে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচেই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ফরাসি ম্যাজিশিয়ান জিনেদিন জিদান। টাইব্রেকারে হেরে সেবার রানার্সআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় ফ্রান্সকে।

এরপর ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্প্যানিশদের শারীরিকভাবে থামানোর চেষ্টা করা ডাচ ডিফেন্ডার হেইটিঙ্গা অতিরিক্ত সময়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছিলেন। সেখান থেকে ব্রাজিল, রাশিয়া, কাতার আসরে ঘুরে ২০২৬ সালের উত্তর আমেরিকায় মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ফাইনালে এসে  ৯০ মিনিটের শেষ মুহূর্তে এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখলে ১৬ বছর আগের সেই কাকতালীয় ঘটনার আবারও পুনরাবৃত্তি দেখলো ফুটবল বিশ্ব।

ইত্তেফাক/এসএইচ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন