ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বজয়ের উল্লাসে মেতেছে স্পেন। দীর্ঘ ১৬ বছর পর স্প্যানিশদের এই বিশ্বকাপ জয়ের ঐতিহাসিক মুহূর্তে, নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের গ্যালারি ছাপিয়ে সব আলো কেড়ে নিয়েছে এক খুদে তারকা। তিনি আর কেউ নন, স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামালের ৩ বছর বয়সী ছোট ভাই কেইন! বড় ভাইয়ের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের পর মাঠে তার মিষ্টি ও চঞ্চল কাণ্ডকারখানা এখন নেট দুনিয়ায় তুমুল ভাইরাল।
নিউজার্সিতে গতকাল আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতল স্পেন। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর স্প্যানিশ ফুটবলাররা শুরু করেন উদযাপন। ইয়ামালের ভাইও গাভি, পাউ কুবারসি, মার্ক কুকুরেয়াদের সঙ্গে ফুটবল খেলেছে। বড় ভাইয়ের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের পর সেই ট্রফি হাতে নিয়ে উদযাপনও করেছে কেইন। কখনো লাফ দিয়ে ভাইয়ের কোলে উঠেছে কেইন। চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বলে কথা। ইয়ামাল ও তার ভাইয়ের এমন বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস তো তাদেরই মানায়।
আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনালের আগেও ইয়ামালের ছোট ভাই কেইন ভাইরাল হয়েছিল। লস অ্যাঞ্জেলেসে ১০ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে স্পেনের জয়ের পর স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনে (জাম্বোট্রন) নিজের মুখভঙ্গি দেখে কেইন একের পর এক মজার অভিব্যক্তি দিয়েছিল। বড় ভাই ইয়ামাল তা উপভোগ করছিলেন।
নিউজার্সিতে গতকাল আর্জেন্টিনা-স্পেন শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালের আগে আলোচনায় ছিল ইয়ামালকে মেসির গোসল করানোর দৃশ্য। ২০০৭ সালে ইউনিসেফের এক অনুষ্ঠানে বাথটাবে বসা শিশু ইয়ামালকে গোসল করাচ্ছিলেন মেসি। ১৯ বছর আগে শিশু ইয়ামাল ও মেসি একে অপরের দিকে তাকিয়ে হাসছিলেন। শেষ পর্যন্ত ফাইনালে শেষ হাসি হাসলেন ইয়ামালই। মেসির টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতা হলো না।
আর্জেন্টিনা গতকাল ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত ৩ মিনিটে ১০ জনের দলে পরিণত হয়। পাউ কুবারসিকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন এনসো ফের্নান্দেস। যা আপনাআপনি লাল কার্ডে পরিণত হয়। এমনকি আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার লেয়ান্দ্রো পারেদেস ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখেছেন। হারের পর তিনি স্পেনের এরিক গার্সিয়া ও গাভির গলা চেপে ধরেন।
১-০ গোলের জয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে মঞ্চে স্পেনের ফুটবলাররা হাসিমুখে মেডেল পরছেন। ১০৬ মিনিটে জয়সূচক গোলটা করেছেন স্পেনের ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস।নিকো উইলিয়ামসের হেড থেকে পাস রিসিভ করে যে বুলেট গতির শট তোরেস দিয়েছেন, তা ঠেকানোর সাধ্য ছিল না এমি মার্তিনেসের। দীর্ঘ ৩৯ দিনের টুর্নামেন্ট শেষ হলো লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যদের ট্রফি উদযাপন দিয়ে। তবে ম্যচ শেষে নিউ জার্সিতে স্পেনের হাতে ট্রফি দেওয়ার সময় আর্জেন্টিনা উল্টোদিকে ফিরে দাঁড়ায়।

