পুলিশি বর্বরতার ভিডিও দেখার অনুরোধে ভারতের প্রধান বিচারপতি বললেন- দেখার সময় নেই

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৬, ২১:৩৫

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর-মন্তরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা এক আবেদনের জরুরি শুনানির অনুরোধ নাকচ করে দিয়েছেন দেশটির প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। আবেদনকারীর আইনজীবী পুলিশের লাঠিচার্জের ভিডিও আদালতে দেখাতে চাইলে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘ভিডিও দেখার সময় আমাদের নেই।’

টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, বুধবার (২২ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। বেঞ্চে আরও ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি. মোহনা।

আবেদনকারীর আইনজীবী আদালতকে জানান, সোমবার যন্তর-মন্তরে ছাত্রদের ওপর নৃশংস আচরণ করেছে পুলিশ এবং তার প্রমাণ হিসেবে ভিডিও ফুটেজও রয়েছে। তিনি বৃহস্পতিবারই মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করার অনুরোধ জানান।

তবে প্রধান বিচারপতি এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘ভিডিওতে আমাদের কোনো আগ্রহ নেই, আমাদের দেখার সময় নেই। আমরা ভিডিও দেখতে চাই না।’ দেশটির সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের খবরে বলা হয়, যখন আইনজীবী আবারও ভিডিও প্রমাণের কথা উল্লেখ করে ছাত্রদের মারধরের অভিযোগ তোলেন, তখন প্রধান বিচারপতি জবাব দেন, ‘আমাদের সময় নষ্ট করবেন না। আমরা কোনো ভিডিও দেখতে চাই না।’

সোমবার সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে পুলিশের পদক্ষেপকে ঘিরে আবেদনটি করা হয়। হাজারো শিক্ষার্থী ও তরুণ বিক্ষোভকারী বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে সংসদের দিকে মিছিল করেন। বিক্ষোভকারীরা পুলিশি ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে। এ ঘটনায় বিক্ষোভকারী ও পুলিশ উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।

এদিকে, যন্তর-মন্তরে চলমান অবস্থান কর্মসূচি বুধবার দ্বিতীয় মাসে পা দিয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, রাতভর আরও সমর্থক সেখানে যোগ দিয়েছেন। ভারী পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেও আন্দোলনস্থলে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। গত ২০ জুন শুরু হওয়া এই আন্দোলনে পরীক্ষায় অনিয়মের তদন্ত, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানানো হচ্ছে।

এদিকে আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক বর্তমানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। তার ঘোষণা, শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া বা বিষয়টি সংসদে উত্থাপনের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন ভাঙবেন না।

 

ইত্তেফাক/এনএ