টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাদকের আখড়া হিসেবে খ্যাত সাহাপাড়া গ্রামে অতিরিক্ত মদ পানে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ওই ব্যক্তির নাম লিটন ঘোষ (৫০)। তার পিতার নাম মৃত দেবু ঘোষ। সাহাপাড়া ঘোষপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন তিনি। মির্জাপুর পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের মির্জাপুর সাহাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর এলাকায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
শুক্রবার মির্জাপুর সাহাপাড়া গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, লিটন ঘোষসহ তার কয়েকজন বন্ধু গত বুধবার একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যান। বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফিরে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মিলিত হয়ে রাতে অতিরিক্ত মদ পান করে লিটন ঘোষ অসুস্থ হয়ে পড়েন। আশেপাশের লোকজন গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাতেই মির্জাুপর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করে। ভর্তির কিছুক্ষণ পর তিনি মারা যান।
এই ঘটনার পর এলাকায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এর আগেও সাহাপাড়া গ্রামে মদ পানে কয়েকজনের মত্যু হয়। তবু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, মির্জাপুর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৮ নং ওয়ার্ড মির্জাপুর সাহাপাড়া, বাবু বাজার সংলগ্ন একটি বেসরকারি এনজিও শান্তিপ্রিয় স্ংস্থা, আন্ধরা, মুসলিমপাড়া, সরিষাদাইর, বাবু বাজার ও এর আশপাশ, ঘোষপাড়াসহ ১৫-২০টি স্পটে দীর্ঘ দিন ধরে নিয়মিত মাদকের ব্যবসা চলে আসছে। এসব আখড়ায় ফেনসিডিল, হেরোইন, ইয়াবা, গাঁজা ও মদসহ মাদকের জমজমাট ব্যবসা চলে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটছে। মাদক নিয়ন্ত্রনের জন্য স্থানীয় ভুক্তভোগি লোকজন প্রশাসনকে একাধিকবার অভিযোগ করেও মাদক নিয়ন্ত্রনে কোন সুফল পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন।
আরও পড়ুন: মাগুরায় তিন ছিনতাইকারী আটক
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সায়েদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, লিটন ঘোষের মদ পানে মৃত্যুর খবর এখন পর্যন্ত পুলিশকে জানানো হয়নি। হাসপাতাল এবং তার পরিবারও ঘটনাটি ধামাচাপা দিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/নূহু
