এবারের কোরবানির ঈদে পশুর হাট গুলোতে পাবনার গরুর খামারি ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা মোটা অংকের লোকসান গুনেছেন। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকায় অনেকেই লসে গরু বিক্রি করেছেন। পথে বসার উপক্রম প্রায় দুই হাজার খামারি ও মৌসুমি ব্যবসায়ীর।
জানা গেছে, সারাদেশে এই অঞ্চলের গরুর খ্যাতি ও চাহিদা থাকায় জেলার সদর উপজেলা বাদে বাকি ৮ উপজেলার খামারি ও চাষীরা ক্রস জাতের পাবনা ব্রিড, অস্ট্রেলিয়ান-ফ্রিজিয়ান ব্রিড, ইন্ডিয়ান হরিয়ান ব্রিড, পাকিস্তানি সাহিয়াল ব্রিড ও দেশি জাতের গরু পালন করেন। কিন্তু এবার দেশের কোরবানির পশুর হাট গুলোতে সরবরাহ বেশি থাকায় গরুর দরপতন ঘটে।
এ অঞ্চলের খামারি ও চাষীরা জেলার চাহিদা মিটিয়ে ৭০ হাজারের বেশি পশু দেশের বিভিন্ন হাটে সরবরাহ করেছিলেন। গরু ব্যবসায়ীরা খামারি ও চাষীদের বাড়ি থেকে নগদ-বাকিতে গরু কিনে বিক্রির জন্য সড়ক ও নৌপথে ঢাকা, সিলেট, চিটাগাংসহ বিভিন্ন জেলার পশুরহাটে নিয়ে এসেছিলেন। এর মধ্যে কেউ লোকসান দিয়ে গরু বিক্রি করেছেন, আবার অনেকেই বিক্রি করতে না পেরে ফেরত এনেছেন।
বেড়া উপজেলার গরু ব্যবসায়ী আলতাব হোসেন বলেন, দেশের অধিকাংশ জেলায় এখন ছোট-বড় অনেক গরুর খামার গড়ে উঠেছে। ঈদের দুই দিন আগে হঠাৎ গরুর দাম কমে যাওয়ায় এক লাখ টাকা দামের গরু ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে।
নতুনপাড়া গ্রামের হায়দার আলী জানান, ঢাকার গাবতলী পশুর হাটে ৬০টি গরু এনেছিলেন। লোকসানে দিয়ে ৪০টি গরু বিক্রি করেছেন। বাকি গুলো ফেরত আনা হয়েছে। একই গ্রামের মন্টু ব্যাপারী, নদী পারের সোলেমান ব্যাপারীর ২৯৩টি গরুর মধ্যে বিক্রি হয়েছে ১৩১টি। অবিক্রিত গুলো ফেরত এনেছেন। তাদের লোকসান প্রায় ৩৪ লাখ টাকা।
আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ায় যাত্রীবাহী খাদে, নিহত ১
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পাবনা জেলার দুই সহস্রাধিক গরু ব্যবসায়ী ও খামারি প্রত্যেকে গড়ে ৫০ হাজার থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত লোকসান দিয়েছেন।
বাকি টাকা না পাওয়ার আশঙ্কায় এখন অনেক খামারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে গরু ফেরত নিয়ে যাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ খামারি ও চাষীদের পাওনা টাকা পরিশোধ করতে না পেরে নিজেদের আড়ালে রাখছেন।
ইত্তেফাক/অনি
