তদন্ত কমিশন গঠন করে বঙ্গবন্ধু হত্যার কুশীলবদের বিচার হবে: শেখ সেলিম

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৯, ১৬:৩৭

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য  ও গোপালগঞ্জ সদর আসনের এমপি শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেছেন, ‘তদন্ত কমিশন গঠন করে বঙ্গবন্ধু হত্যার কুশীলবদের খুঁজে বের করে বিচার করা হবে।’

বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় চত্বরে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

শেখ সেলিম বলেন, ‘এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত ছিলো। কারা ষড়যন্ত্রের মূল নায়ক ছিলো। তাদেরকে ভবিষ্যৎ বংশধরের নিরাপত্তার জন্য খুঁজে বের করতে হবে। বাংলাদেশে যেন এ ধরণের অঘটন আর না ঘটে। এ ধরণের হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে বাংলার স্বাধীনতা, ৩০ লাখ শহীদের রক্ত ও বঙ্গবন্ধুকে যেন কোনদিন তারা অপমান করতে না পারে। সেজন্য পার্লামেন্টেও বলেছি, আজও বলি, একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করা হোক। এ হত্যাকাণ্ডের পর তাদের নীরবতা কেন ? কেন তারা খুনীদের সমর্থন দিলো ? সেই বিষয়গুলো বের করতে হবে।’

শেখ সেলিম আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যায় মুষ্টিমেয় কিছু আসামির বিচার হয়েছে, বিশ্বের নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের এ নেতাকে মুষ্টিমেয় কয়েকজন লোকই হত্যা করেনি। এরা কজন সামনে ছিল, পেছনে যারা এ হত্যার পরিকল্পনা করেছিলো এবং মূল নায়ক ছিলো তাদের খুঁজে বের করতেই নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে। এ ঘটনার স্বাক্ষীরা বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যাচ্ছেন। তাই দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত কাজ শুরু করতে হবে ।’

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধূরী এমদাদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ শোক সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধূরী নওফেল।

খুনী জিয়াউর রহমানের কবর পবিত্র সংসদ ভবন থেকে অপসারণের দাবি জানিয়ে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধূরী নওফেল বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রকারী জিয়াউর রহমান। তার হাত মুক্তিযোদ্ধা ও সেনা কর্মকর্তাদের রক্তে রঞ্জিত। তাই এ খুনীর কবর পবিত্র সংসদ ভবনে থাকতে পারে না। জিয়ার মৃত্যুর পর তাকে চট্টগ্রামে কবর দেওয়া হয়। পরে নাটক করে সেখান থেকে কবর খুঁড়ে এনে সংসদ ভবনের সামনে নকল কবর দেওয়া হয়। এ খুনীর কবর সংসদ ভবন থেকে অপসারণের দাবি জানান শিক্ষা উপমন্ত্রী।

অন্যান্যের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান, উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ লুৎফার রহমান,  এ্যাড. রনজিৎ কুমার গামা, পৌর মেয়র কজী লিয়াকত আলী লেকু, শহর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, জেলা যুবলীগের সভাপতি জিএম শিহাবউদ্দিন আজম, সাধারণ সম্পাদক এমবি সাঈফ বি মোল্লা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আকরামুজ্জামান আকরাম, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ আব্দুল হামিদ সহ আরো অনেকে বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন: নেত্রকোনায় বাস চাপায় মোটর সাইকেল আরোহী নিহত

পরে বঙ্গবন্ধু  ও ১৫ আগস্টের শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া মোনাজাত এবং ৫ হাজার মানুষের মধ্যে তবারক বিতরণ করা হয়। 

ইত্তেফাক/নূহু