গত বর্ষা মৌসুম থেকে চলতি বর্ষায় নবগঙ্গা নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে নড়াইলের কালিয়ার শুক্তগ্রামের প্রায় দেড়শ বসতবাড়ি, গাছপালাসহ অন্তত ৮০ একর ফসলি জমি। এবারও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে কালিয়া উপজেলার বাবরাহাচলা ইউনিয়নের শুক্তগ্রাম।
সরেজমিনে, শুক্তগ্রাম বাজারের সঙ্গে লাগোয়া নবগঙ্গা নদীতে ভাঙ্গন রোধে বালুর বস্তা দেওয়া হয়েছে। বস্তা ফেলার বাইরের অংশে নতুন করে দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন।
স্থানীয়রা জানান, গত বর্ষার মাঝামাঝি বালুর বস্তা ফেলা হয়। তার আগেই শুক্তগ্রাম বাজারের পাশের কুমার পাড়া ও চরপাড়া জনপদ দুটি নদী গর্ভে বিলীন হয়। গত বছরের ভাঙ্গনে ওই দুটি পাড়ার অন্তত দেড়শ বসতবাড়ি ও ৮০ একর ফসলি জমি নদীতে চলে গেছে। কয়েক দশকে ওই এলাকার ফসলি মাঠ ‘শুক্তগ্রাম বিল’ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্তর জানান, অন্তত ৮৫টি পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গনের শিকার চরপাড়ার ষাটোর্ধ তোবারেক শেখ বলেন, তিনবার নদী ভাঙ্গনে তার বাড়িঘরসহ প্রায় ৩৫ একর ফসলি জমির সবই নদীতে গেছে। সর্বশেষ ২ একর ৫৬ শতক জমিতে ছিল বসতবাড়ি। নদীতে ভাঙনের পর অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ১৫ শতক।
কালিয়ার ইউএনও মো. নাজমুল হুদা বলেছেন, ইতিমধ্যে নড়াইলের জেলা প্রশাসকসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ভাঙ্গন রোধের ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
আরও পড়ুন: কোটি টাকা লোকসানে পাবনা অঞ্চলের গো-খামারি ও ব্যবসায়ী
নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ নেওয়াজ তালুকদার বলেন, সম্প্রতি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শুক্তগ্রাম ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বাজারের আশপাশে সামান্য ভাঙ্গন আছে। এলাকাটিতে নজর রাখা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা দেখা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/অনি
