পীরগাছায় বিয়ে বাড়ির খাবার খেয়ে বর-কনেসহ অসুস্থ অর্ধশত

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৯, ১৭:২৯

বিয়ের অনুষ্ঠানে কনের বাড়িতে খাবার খেয়ে রংপুরের পীরগাছায় বর-কনেসহ অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর থেকে দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অসুস্থ হয়ে পড়া ৩৩ জনকে ভর্তি করা হয়। অসুস্থ ব্যক্তিরা সবাই উপজেলার সদর ইউনিয়নের অনন্তরাম জামিরজান গ্রামের বাসিন্দা।

ভুক্তভোগীরা জানান, উপজেলার অনন্তরাম জামিরজান গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে ফরিদুল ইসলাম লাবলুর সঙ্গে কাউনিয়া উপজেলার আলুটারী গ্রামের আকবর আলীর মেয়ে নুর আক্তার আসমার বিয়ে হয় বুধবার (১৪ আগস্ট) রাতে। বিয়ের অনুষ্ঠানে বর লাবলুর পক্ষে শতাধিক অতিথি কনের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যান। খাবার খাওয়ার পর অতিথিরা সবাই বাড়ি ফিরে যান। এরপর বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর থেকে বর-কনেসহ অর্ধ শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশুর পেটের পীড়া, বমি ও পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত হন।

এদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ৩৩জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত কনেসহ ৭ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার জুয়েল তরফদার জানান, খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের চিকিৎসা চলছে।

ডাঃ শাহনেওয়াজ সাঈদ জানান, খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে সবাই পরিপাকতন্ত্রে ইনফেকশন হয়ে অসুস্থ হয়েছে। সকলেরই পাতলা পায়খানা, বমি ও জ্বর। 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বরের বাবা খলিলুর রহমান(৫২), মা নাজমা(৪৩), বর লাবলু(২৮),আবিদা(৫০), সুমন(২২), নাজিম(১৪), রবিউল(১৮), রাসেল (১৮), আলেদা(২৫),আলেয়া (৫৫), আামিনুল(৪০), সুলতান মাহমুদ(২৮), আঃ হান্নান (৩৫) ও চাঁন মিয়াসহ ৩৩ জন সকলেই বর যাত্রী। এদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর। 

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৩৩ জন ভর্তির খবর পাওয়া গেছে। তবে রোগীর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে বরের বাবা খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের জানান।

আরও পড়ুন: টেকনাফে পুলিশের গুলিতে মাদক কারবারী নিহত, তিন পুলিশ আহত

পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানান, আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে অসুস্থ রোগীদের সঙ্গে কথা বলেছি। বর্তমানে তাদের চিকিৎসা চলছে।

ইত্তেফাক/নূহু