মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বনভূমি উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গিয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০টি কমলা গাছ কেটে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। উচ্ছেদ অভিযানে কমলা গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ ওঠার পর গঠিত তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করেছে।
সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমানকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটি সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নথিভুক্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও সংগ্রহ করেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে শিগগিরই সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কমিটির প্রধান।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রেঞ্জের আওতাধীন আদমপুর বিটের কালিঞ্জি এলাকায় যান তদন্ত কমিটির সদস্যরা। এ সময় আশরাফুর রহমানের সঙ্গে ছিলেন সিলেট বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. আব্দুর রহমান এবং মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোসা. শাহীনা আক্তার।
এ ছাড়া পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিয়াজ মাহমুদ, কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু, বন বিভাগের কর্মকর্তা এবং কমলগঞ্জ থানা পুলিশের সদস্যরা।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কমিটির প্রধান আশরাফুর রহমান বলেন, এখানে কিছু গাছ কাটা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্তের দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য রেকর্ড করেছি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে।
তিনি জানান, তদন্তে ঘটনার প্রকৃত কারণ, দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা এবং আইনি দিকগুলো খতিয়ে দেখা হবে।
কমিটির সদস্য ও সিলেট বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো. আব্দুর রহমান বলেন, আমি তদন্ত কমিটির প্রধানকে সহযোগিতা করতে এসেছি। সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে কেউ যদি স্থাপনা, পাকা রাস্তা বা অন্য কোনো অবকাঠামো নির্মাণ করে থাকে, আইন অনুযায়ী তা উচ্ছেদ করা হবে। এলাকায় একটি পুকুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছও রয়েছে, সবকিছুই তদন্তের আওতায় আনা হবে।
গত ১৬ জুলাই সকালে কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রেঞ্জের আদমপুর বিটের কালিঞ্জি বসতি এলাকায় বন বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ উদ্যোগে প্রায় পাঁচ একর সংরক্ষিত বনভূমি দখলমুক্ত করার সময় ১২ শত কমলা গাছের কাঁচা কমলাসহ কেটে ফেলা হয় । উচ্ছেদ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিয়াজ মাহমুদ, যিনি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও তদারকি করেন।

