বরগুনায় হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী 

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৬, ২০:৩২

বরগুনার আমতলীতে সুপ্রিয়া রানী নামে এক গৃহবধূর মরদেহ রেখে পালিয়েছে তার স্বামী ও স্বজনরা। স্বামী অজয় চন্দ্র হাওলাদারের পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় সুপ্রিয়া রানীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।

এ ঘটনায় শুক্রবার (২৪ জুলাই) জামাতাকে প্রধান আসামি করে আমতলী থানায় মামলা দায়ের করেছেন সুপ্রিয়া রানীর মা দেপালী রানী। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের হরিমৃত্যঞ্জয় গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ শুক্রবার দুপুরে অজয় চন্দ্র হাওলাদারের বড় বোন রমা রানী হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে গাজীপুর বন্দরের বিমল বেপারীর মেয়ে সুপ্রিয়াকে হরিমৃত্যুঞ্জয় গ্রামের গোপাল চন্দ্র হাওলাদারের ছেলে অজয় চন্দ্র হাওলাদারের সঙ্গে বিয়ে দেয়। বিয়ের পর থেকেই নানাভাবে স্ত্রী সুপ্রিয়াকে নির্যাতন করে আসছে এমন অভিযোগ মা দেপালী রানীর। স্বামী অজয় চন্দ্র হাওলাদার তার ছোট ভাই উত্তম হাওলাদারের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন।

এর প্রতিবাদ করলে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে স্বামী অজয় চন্দ্র হাওলাদার সুপ্রিয়াকে মারধর করেন। এতে সুপ্রিয়া অসুস্থ হয় পড়লে স্বামী  ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। কর্তব্যরত চিকিৎসক  চিকিৎসক মো. নাজমুল হাসান রাহাত তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর খবর জেনে স্বামী অজয় চন্দ্র হাওলাদার ও তার স্বজনরা মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায়।

শুক্রবার দুপুরে পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহ পুলিশ অজয় চন্দ্রের বোন রমা রানীকে গ্রেপ্তার করেছে। নিহত সুপ্রিয়ার ১১ বছর বয়সী এক কন্যা ও ১১ মাস বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।

আমতলী থানার ওসি মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। রমা রানী নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা অব্যাহত আছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ইত্তেফাক/এপি