ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ায় নারী শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক ‘ফিমেল জোন’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ নতুন এই জোনের উদ্বোধন করেন। এরপর থেকেই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও ৯ দফার ঘোষক আব্দুল কাদের শুক্রবার নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেন, ডাকসুর উদ্যোগে টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ায় নারী শিক্ষার্থীদের জন্য পর্দার ঘেরাটোপ দিয়ে আলাদা করে ‘ফিমেল জোন’ বানানো হইছে। এটাকে আপাতদৃষ্টিতে ভালো উদ্যোগ হিসেবেই দেখি। কারণ হিজাব-নিকাব পরা পর্দানশীন নারী শিক্ষার্থী এবং অন্য অনেক নারীই পাবলিক পরিসরে খাবার খেতে অস্বস্তি বোধ করেন, বিড়ম্বনার শিকার হন। টিএসসি তো সব ধরনের শিক্ষার্থীদের আগমনের জন্য, আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে সবার জন্য উপযুক্ত এবং অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা, যতদূর সম্ভব কমফোর্ট জোন তৈরি করা, প্রতিবন্ধকতা নিরসন করা।
‘তবে ডাকসু নেতৃবৃন্দ নারী শিক্ষার্থীদের যে নিরাপত্তা, মর্যাদা, অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলে আলাদা করে পর্দার ঘেরাটোপ বানাচ্ছেন, সেই ডাকসু টিএসসিতে নারীদের ওয়াশরুম বিড়ম্বনা নিয়ে কনসার্ন না। ব্যবহার অনুপযোগী ফিমেল ওয়াশরুম নিয়ে নারী শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন থেকে অভিযোগ জানিয়ে আসছেন, সেই বিড়ম্বনা থেকে তাদেরকে পরিত্রাণ দেওয়ার জন্য ডাকসু ততটা আগ্রহের সঙ্গে কাজ করে নাই, যতটা আগ্রহ আর উৎসাহ পর্দাঘেরা ফিমেল জোন নিয়ে করেছে। অথচ নারী শিক্ষার্থীরা টিএসসিতে এসে সবচেয়ে বেশি বিড়ম্বনার শিকার এ ওয়াশরুম ব্যবহার নিয়ে। সেজন্য অনেককেই আজকে প্রশ্ন তুলতে দেখেছি।’
এই জুলাই যোদ্ধা আরও বলেন, ডাকসুকে শুরুর দিন থেকে একটা নির্দিষ্ট ঘরানার মানুষের সুবিধা-অসুবিধাকে প্রায়োরিটি দিয়ে কাজ করতে দেখা গেছে। কালচারাল প্রোগ্রাম বলেন আর পর্দার ঘেরাটোপের কথা বলেন, সবকিছু কেনো জানি একটা নির্দিষ্ট ইডিওলজি বেইজড। বাদবাকিদের বিষয়টা উপেক্ষিত। তাছাড়া, পর্দানশীন নারীরাও তো ওয়াশরুম বিড়ম্বনার শিকার। কেবল তাদের পর্দার ঘেরাটোপে খাবারের ব্যবস্থা করলে হবে? নির্বাচনের আগে দিয়ে পর্দার আড়ালে থেকে বক্তব্য দিয়ে নির্বাচন পরবর্তীতে নারীকে অসম্মান করার মতো চিন্তাভাবনা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। সৎ নিয়ত থাকলে সব দিক ভাবতে হবে।
সবশেষে আব্দুল কাদের বলেন, ক্যাফেটেরিয়ায় ‘ফিমেল জোন’ হয়েছে, ভালো হয়েছে। তবে এ ‘ফিমেল জোন’ যেন দুদিন পর তাদের (ছাত্রী সংস্থা) ফিমেল উইংয়ের ‘টিএসসি শাখা অফিস’ না হয়। এ প্রত্যাশা আমরা কর্তাব্যক্তিদের কাছে করতেই পারি।

