‘এখনো জুলাইয়ের ভয়ানক দিনগুলোর ছবি ভেসে উঠে’

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৬, ২১:২৭

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ঘিরে নিজের স্মৃতি, অনুভূতি ও আন্দোলনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন লামিয়া রায়হান। 

তিনি পোস্টে লিখেন, এখনো চোখ বন্ধ করে ভাবলে জুলাইয়ের ভয়ানক দিনগুলোর ছবি ভেসে উঠে। 

বুধবার (১ জুলাই) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি জুলাইকে সাহস, আত্মত্যাগ, শোক ও নতুন প্রত্যয়ের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন।

পোস্টে লামিয়া লিখেছেন, জুলাই মানে আমার কাছে এক অদ্ভুত অনুভূতি। জুলাই আমাকে বুঝিয়েছে এই দেশকে আমি কতোটা ভালোবাসি, জুলাই আমাকে শিখিয়েছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো, জুলাই দিয়েছে আমাকে জুলাই কণ্যার পরিচয়। জুলাই দেখিয়েছে ছাত্র- জনতার বুক ভরা সাহস নিয়ে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে পড়া, জীবন হাতে নিয়ে দেশকে বাঁচাতে রাজপথে নামা। দেখিয়েছে রাজপথে নারীদের অসীম সাহসিকতা ও বীরত্ব।

একই সঙ্গে আন্দোলনের ভয়াবহ স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি। তিনি লিখেন, সন্তান হারা মায়ের আর্তনাদ, পিতার কাধে সন্তানের লাশের ভার, ছোট ছোট ফুলের ঝরে পড়া, গুলিতে ঝাঁঝরা হওয়া তরুণের নিষ্প্রাণ দেহ, আগুনে পোড়া লাশের স্তুপ! জুলাই দেখিয়েছে খুনি হাসিনার পাপের সম্রাজ্য, দেখিয়েছে হাসিনার পোষা বাহিনীর সন্ত্রাসবাদ, দেখিয়েছে সরকারের পা চাটা পুলিশ দের বর্বরতা। দেখিয়েছে লাশের মিছিলকে ঘিরে উন্মাদ নৃত্য করা সেই সব জালিম দের উল্লাস। 

 

 


পোস্টে তিনি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর সমালোচনা করেন। পাশাপাশি ‘আয়নাঘরে’ বন্দিদের মুক্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জুলাই মানুষের নতুন করে বাঁচার অধিকার, কথা বলার অধিকার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি দিয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভিসি চত্বর এলাকায় ১৫ জুলাইয়ের নিজের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথাও স্মরণ করেন লামিয়া। তিনি লেখেন, এখনও ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় সেই দিনের স্মৃতি চোখের সামনে ভেসে উঠে।

পোস্টের শেষাংশে জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে তিনি বলেন, রক্তাক্ত জুলাইয়ের বিনিময়ে পাওয়া ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। অন্যথায় শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ইত্তেফাক/আরএইচ