ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য (এমপি) মুহাম্মদুল্লাহর চোখ উপড়ে ফেলার হুমকি দিয়েছেন সোহরাব হোসেন নামের বিএনপির এক স্থানীয় কর্মী।
হুমকির একটি ভিডিও চিত্র গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর এ ঘটনায় তারাকান্দা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত সোহরাব হোসেন তারাকান্দা উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের আটাদার গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় বিএনপির কর্মী।
ভিডিওতে সোহরাব হোসেনকে সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে গালাগাল করতে এবং তাকে গুরুতর শারীরিক ক্ষতির হুমকি দিতে দেখা যায়। ভিডিওতে তিনি স্থানীয় বিএনপি নেতা মোতাহার হোসেন তালুকদারের নামও উচ্চারণ করেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে সোহরাব হোসেনকে বলতে শোনা যায়, ‘আন্দোলন করো এমপি সাব? ওই যে ওয়াহাবি এমপি সাব, রাজাকারের বাচ্চা... মোতাহার তালুকদারের লোকে পিটাইলে তুই এলাকায় থাকতারবি? এলাকায় আন্দোলন করো? রাস্তায় না, আন্দোলন... দেওয়াম। দেশটা ভালোভাবে চলতাছে, তোর সহ্য হয় না রাজাকারের বাচ্চা? এই সরকার খারাপভাবে চালাইতাছে দেশ?’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের মধ্যে কত সংকট, জ্বালানি তেলের অভাব—এসব বাদ দিয়া তুই আন্দোলন করস। আর কোনো দিন যদি রাস্তায় নামছস, একটারেও ঘরে ফিরে যাইতে দিতাম না। তোরে এমপির মতো লাগে? ভোট চুরি কইরা নির্বাচন কইরা এখন আবার আন্দোলন মারাও? তোমারে কেউ কিছু করতে পারবো না... একবারে চোখ তুইল্লালবাম।’
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ বিএনপির প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদারকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে সরকার মোতাহার হোসেন তালুকদারকে ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়।
ভিডিও বার্তার বিষয়ে বক্তব্য জানতে সোহরাব হোসেনের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ। তারা এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টি ও সংঘাত বাধানোর চেষ্টা করছেন। তবে এ ঘটনায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে আতঙ্কিত নন বলেও জানান।
তিনি বলেন, ‘জীবন-মৃত্যু আল্লাহর হাতে। কিন্তু এ ধরনের ঘটনা সামাজিক পরিবেশ নষ্ট করে। উসকানি দিয়ে ঝগড়া লাগানোর চেষ্টা করছে। ভিডিও বক্তব্য অনুযায়ী হুমকিদাতা মোতাহার হোসেন তালুকদারের লোক। মোতাহার হোসেন তালুকদারের বিরুদ্ধে কথা বললে আমার চোখ তুলে লাইবো। এটা নিয়ে আর বুঝার কিছু নাই।’
সংসদ সদস্যকে হুমকি বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি দলের কোনো পদধারী নন; সর্বোচ্চ একজন সমর্থক হতে পারেন। বিষয়টি জানার পরই তিনি ভিডিওটি ডিলিট করতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং এমন আচরণ বরদাস্ত করা হবে না বলে সতর্ক করেছেন।
তিনি বলেন, ‘এটি রাজনৈতিক নয়, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে ঘটেছে বলে আমার ধারণা। আমি এ ধরনের আচরণ অ্যালাউ করি না। যে কেউ হতে পারে, আমার শত্রু হতে পারে—তার ব্যাপারে এমন কথা কেন বলবে? ভিডিও না মুছে ফেললে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে তারাকান্দা থানার ওসি আবদুর রাশিদ বলেন, এ ঘটনায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তারাকান্দা উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন ফয়েজী শনিবার বেলা তিনটার দিকে কয়েকজন নেতা-কর্মীকে নিয়ে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

