সরকারও আশির দশকে ফিরে যেতে চাইছে: নাহিদ ইসলাম

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৩৪

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ট্রেন্ড শুরু হয়েছে, সবাই যেন আশির দশকে ফিরে যেতে চাচ্ছে। এই সরকারকে দেখেও মনে হচ্ছে- তারাও যেন আশির দশকে ফিরে যেতে চাইছে। আশির দশকে তো এমন গ্যাস-বিদ্যুৎ ছিল না। মনে হচ্ছে সরকারও সোশ্যাল মিডিয়ার এই ট্রেন্ডের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করছে। তবে আমরা বলব, সরকার ট্রেন্ডের সঙ্গে থাকুক, কিন্তু তা যেন ইতিবাচকভাবে হয়।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় ছাত্রশক্তি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজনে ‘বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারুণ্যের রাজনৈতিক ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, পুরো পৃথিবী যখন এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ যেন কোনোভাবেই পিছিয়ে না পড়ে- এটাই আমাদের সকলের প্রত্যাশা। বিশেষ করে এত বড় একটা গণঅভ্যুত্থান, এত রক্তদান এবং এত আত্মত্যাগের পর। আর এই আত্মত্যাগ ও রক্তদানের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এবং এর শিক্ষার্থীরা। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ে সরকারের বিশেষ নীতি ও পরিকল্পনা থাকা উচিত, যা আমাদের সবার প্রত্যাশা।

নাহিদ ইসলাম বলেন, সম্প্রতি সংসদে এক মাননীয় সংসদ সদস্য তার জেলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি জানিয়েছেন।  তার দেখাদেখি আরও ১০ জন সংসদ সদস্য ১০টি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি তোলেন। পরবর্তী সময়ে শিক্ষামন্ত্রী জানালেন যে, প্রথম দাবিটির জেলায় নাকি আগেই বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত হয়েছে এবং কেবল ভিসি নিয়োগ বাকি। আমরা বিগত শাসনামলেও দেখেছি- প্রতিটি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় করার একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। তারা কেবল দলীয় লোকদের চাকরি দেওয়া বা রাজনৈতিক খাতিরে বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় খুলেছিল, যাতে মনে হতো জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় হলেই বুঝি বিপ্লব ঘটে যাবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।

গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পার হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, দুই বছর পর আমাদের যেমন অনেক হতাশা ও না পাওয়ার বেদনা আছে, ঠিক তেমনি অনেক আশাও রয়েছে। এই দুই বছরে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং পরবর্তীতে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত একটি নির্বাচিত সরকার আমরা পেয়েছি। নির্বাচিত সরকারের অনেক প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সেসব প্রতিশ্রুতি তারা কতটুকু পালন করতে পারছে কি পারছে না, তা আপনারা নিজেরাই বিচার করবেন।


এ সময় এনসিপি ও জাতীয় ছাত্রশক্তির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

ইত্তেফাক/এনএ