উচ্চ সুদহার ও জ্বালানি সংকট

উচ্চ প্রবৃদ্ধির পথে বড়ো অন্তরায়

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৯, ২০:৩৬

 

প্রায় সাড়ে চার দশকে বাংলাদেশ এগিয়েছে বহুদূর। এক সময়ের তলাবিহীন ঝুড়ি বিশ্ব দরবারে এখন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। পেয়েছে অনেক স্বীকৃতি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাংকের নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় স্থান। ৭০-এর দশকে মাত্র ১৩৫ ডলার মাথাপিছু আয় করা বাংলাদেশ এখন হাজার ডলারের পথ পাড়ি দিয়েছে। মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯০৪ ডলারে। ২০২১ সাল হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর। বছরটি বাংলাদেশ উদ্যাপন করতে চায় মধ্যম আয়ের দেশ হয়ে। বিশ্বব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে ২০১৫ সালে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের সারিতে নিয়ে আসা হয়েছে। যদিও মাথাপিছু আয়ের দিক থেকে ২০১৩ সাল থেকেই নিম্ন-মধ্য আয় করছে বাংলাদেশ। মাথাপিছু আয়ের এই হিসাবে (নমিনাল) বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন পৃথিবীতে ৫৮তম বড়ো  অর্থনীতির দেশ।

স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা এই অর্থনীতিই এখন নিজের শক্তিতে পদ্মা সেতুর মতো বিশাল অবকাঠামো নির্মাণে সফল হতে চলেছে। পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ, মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট স্থাপনের মতো ব্যয়বহুল প্রকল্পও বাস্তবায়ন করেছে; যা একসময় ছিল শুধু কল্পনা। আশির দশকেও আমাদের প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ শতাংশের ঘরে। বর্তমানে তা কমবেশি ৮ শতাংশ। এ অবস্থায় বিনিয়োগে মন্দা ভবিষ্যত্ অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। উদ্যোক্তারা জ্বালানি সংকটকে বিনিয়োগের প্রধান অন্তরায় বলে মনে করছেন। কেউ কেউ বলছেন, অবকাঠামো সুবিধা পেলে প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশে উন্নীত হবে। এ জন্য বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনায় বাংলাদেশকে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলেও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিকল্প নেই। কিন্তু দেশে প্রত্যাশিত বিনিয়োগ হচ্ছে না। এর কারণ কী? অথচ বাংলাদেশ এখন এমন অবস্থায় এসেছে যে, এই দেশকে এখন আরো এগোতে হবে, যেতে হবে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে। এ জন্য উচ্চ প্রবৃদ্ধির বিকল্প নেই।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এজন্য দেশের স্থিতিশীল পরিবেশ, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা এবং একটি দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। বিনিয়োগে আরো উদার হতে হবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকেও। তবে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সুবিধা,  বিদ্যুত্-জ্বালানি সুবিধাদি নিশ্চিত করতে পারলে অগ্রগতি দ্রুতই হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পাশাপাশি উচ্চ সুদহার এখানে আরেকটি সমস্যা। সুদের ওপর দণ্ডসুদ আরোপ করেও উদ্যোক্তাদের হয়রানি করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, সরল সুদহার কার্যকর করবেন। এটি যত দ্রুতই করা যায়, ততই মঙ্গল। সামগ্রিক বিচারে দেশ এগিয়ে যাক এবং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশকে বেকারত্বের অবসান ঘটিয়ে উচ্চ প্রবৃদ্ধির দেশের তালিকায় যাওয়াই এ মুহূর্তে  সবার লক্ষ্য।

বিনিয়োগ সুরক্ষার বিষয়ে

ভাবতে হবে

মাহমুদুর রহমান সুমন

মহাসচিব

বাংলাদেশ-গ্রিস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি

নতুন মুদ্রানীতিতেও সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে। এর ফলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ খুব একটা বাড়বে না। এমনিতেই গত কয়েক বছর ধরে ব্যাংকঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে গ্রাহকদের নিরুত্সাহিত করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো শিল্পে বিনিয়োগে খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি। এখনো ব্যাংকগুলোর কঠোর অবস্থানের কারণে বড়ো উদ্যোক্তারাও হতাশায় রয়েছেন। এর মধ্যে সুদের হার এক অঙ্কে আসেনি। সরল সুদহারও কার্যকর হয়নি। ফলে কর্মসংস্থান তৈরিতে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ থাকলেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন না। এর নেতিবাচক প্রভাব এখন দেশের গোটা বিনিয়োগ খাতে পড়েছে।

অবকাঠামো খাতে সরকার পদ্মা সেতুর মতো বড়ো বড়ো প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। স্থাপন করা হচ্ছে বড়ো বড়ো বিদ্যুত্ প্রকল্প। বড়ো বড়ো ব্রিজ হলো, কালভার্ট হলো কিন্তু মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হলো না, তাতে কিন্তু অর্থনীতির চাকা সহজেই ঘুরবে না। বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা তাদের বিনিয়োগের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড়ো বাধা মনে করেন জ্বালানি সংকট ও বিনিয়োগ সুরক্ষার বিষয়টিকে। নীতির ধারাবাহিকতা থাকতে হবে। রাজনৈতিক স্থিতাবস্থা, স্বল্প সুদ ও সরল সুদ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকলে বিনিয়োগ বাড়বে। তাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।