সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ

প্রতিষ্ঠানের বাস নিজের নামে নিবন্ধন, আয়ের অর্থ যায় অধ্যক্ষের ব্যক্তিগত হিসাবে

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৬, ২০:৩২

ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লার বিরুদ্ধে নতুন করে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানের অর্থে কেনা শিক্ষার্থী পরিবহনের বাসগুলো স্কুলের নামে নিবন্ধনের পরিবর্তে স্ত্রীসহ নিজের নামে নিবন্ধন করিয়ে সেগুলোর আয় ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করছেন তিনি।

দৈনিক ইত্তেফাকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্কুলের অর্থে ক্রয় করা বাসগুলো প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধিত হওয়ার কথা থাকলেও সেগুলো অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লার নামে নিবন্ধন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব বাস থেকে আদায় করা অর্থও প্রতিষ্ঠানের তহবিলে জমা না হয়ে তার ব্যক্তিগত হিসাবে যাচ্ছে।

সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য চালু করা বাসগুলো সাপ্তাহিক ছুটির দিন—শুক্রবার ও শনিবার—বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, যেমন বিয়ে, পিকনিক ও ভ্রমণে ভাড়া দেওয়া হয়। প্রতিটি বাসের জন্য ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, এসব ভাড়ার অর্থ স্কুলের হিসাবে জমা না হয়ে সরাসরি অধ্যক্ষের ব্যক্তিগত হিসাবে চলে যায়। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানের হিসাবপত্রে বাস পরিচালনায় লোকসান দেখানো হয়।

এদিকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও দূরত্বভেদে ১ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত পরিবহন ফি নেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি বাস থেকে মাসে আনুমানিক ৩ লাখ টাকার বেশি আয় হলেও তার প্রতিফলন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক হিসাবপত্রে নেই।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এগুলো ভিত্তিহীন।

তবে বিআরটিএর নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে বাসগুলো তার নামে নিবন্ধিত থাকার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, বাস কেনার সময় প্রতিষ্ঠানের টিআইএন (TIN) সনদ না থাকায় সাময়িকভাবে তার ব্যক্তিগত টিআইএন ব্যবহার করে নিবন্ধন করা হয়েছিল।

কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কেন বাসগুলোর মালিকানা প্রতিষ্ঠানের নামে হস্তান্তর করা হয়নি—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ ছাড়া বাস পরিচালনা থেকে আয়-ব্যয়ের হিসাব দেখতে চাইলেও তিনি তা দেখাতে সম্মত হননি।

 
ইত্তেফাক/এমএএম