স্থানান্তর হচ্ছে খুলনা মহানগরীর পাঁচ হাজার বৈদ্যুতিক খুঁটি

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৯, ২০:৫৬

জলাবদ্ধতা নিরসনে

কেসিসি’র দুই প্রকল্প

এনামুল হক, খুলনা অফিস

খুলনা মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত ও উন্নয়নসহ দুটি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে প্রায় পাঁচ হাজার বৈদ্যুতিক খুঁটি (পোল) স্থানান্তর করা হচ্ছে। এর মধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নে ৮৪৩ কোটি টাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত ও উন্নয়নে ৬০৮ কোটি টাকার ব্যয় ধরা হয়েছে। এরই মধ্যে ঐসব পোল স্থানান্তরে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) কর্তৃপক্ষের কাছে ডিও লেটার দিয়েছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। তবে ওজোপাডিকো বলছে, জনস্বার্থে খুলনা মহানগরীর সড়ক ও ড্রেন প্রশস্তকরণে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন দরকার। সে কারণে শিগগিরই ব্যয় নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খুলনা মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে নগরবাসী। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালে কেসিসি নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে। এই প্রকল্পের আওতায় নগরীর ময়ূর নদীসহ ১২টি খাল খনন করা হয়। কিন্তু খনন কাজে অনিয়মসহ নানা কারণে দুই বছরের মধ্যে ময়ূর নদী ভরাট হয়ে যায়। অপরদিকে নগরী জুড়ে গড়ে উঠেছে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর রাস্তাঘাটে হাঁটুপানি জমে যায়।

 কেসিসি নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরীর ২২টি খাল পুনঃখনন ও পরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। মেয়র পদে নির্বাচিত হওয়ার পর তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কেসিসির প্রকৌশল বিভাগকে নতুন প্রকল্প তৈরির নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী ৮৪৩ কোটি টাকার প্রকল্প তৈরি করা হয়।

অপরদিকে, নগরীতে তালিকাভুক্ত সড়ক রয়েছে ১ হাজার ২১৫টি। এসব সড়কের দৈর্ঘ্য ১ হাজার ২০৫ কিলোমিটার। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির থোক বরাদ্দ থেকে প্রতিবছরই এসব সড়কের মধ্যে ছোটো ছোটো সড়ক সংস্কার করা হয়। কিন্তু বড়ো সড়ক সংস্কারের জন্য প্রকল্পের সাহায্য নিতে হয়। ২০১৪ সালে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত সড়ক সংস্কারের জন্য ১০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়নি। পরে আরো কয়েকটি প্রকল্প পাঠানো হলেও সেগুলোও অনুমোদন পায়নি। ফলে সার্বিক কাজ একরকম মুখ থুবড়ে পড়েছিল। এ অবস্থায় নির্বাচিত হওয়ার কয়েকদিন পরই নবনির্বাচিত মেয়র নগরীর ক্ষতিগ্রস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মেরামতের জন্য প্রকল্প তৈরির নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডের ৫১৩টি এবং কেন্দ্রীয়ভাবে ৬০টিসহ মোট ৫৭৩টি সড়কের তালিকা তৈরি করা হয়। পরে এর ব্যয় নির্ধারণ করে ৬০৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়।  কেসিসি সূত্র জানায়, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ৮৪৩ কোটি টাকা এবং সড়ক মেরামতে ৬০৮ কোটি টাকার পৃথক দুটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন মেলে। বর্তমানে প্রকল্প দুটির বাস্তবায়ন কাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নে নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে ৪ হাজার ৯২৯টি বৈদ্যুতিক পোল স্থানান্তরের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

 কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুত্) জাহিদ হোসেন শেখ বলেন, প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নে সড়ক ও ড্রেন প্রশস্তকরণ দরকার। কিন্তু সড়ক ও ড্রেন প্রশস্তকরণ করতে গেলে পোলগুলো স্থানান্তর করতে হবে। এ ব্যাপারে ওজোপাডিকোর এমডি প্রকৌশলী শফিকউদ্দিন বলেন, পোলগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে শিগগিরই ব্যয় নিরূপণ করা হবে। তবে ব্যয় যদি বেশি হয় সেক্ষেত্রে প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে পোল স্থানান্তর করতে হবে।