তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দেবে ১৫ দিনের মধ্যে

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৯, ২১:২৯

লালবাগে প্লাস্টিক কারখানায় আগুন

ইত্তেফাক রিপোর্ট 

লালবাগের ইসলামবাগে যে প্লাস্টিক কারখানায় আগুন লেগেছিল তাতে প্রচুর দাহ্য পদার্থ ছিল। ফলে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতাও ছিল অনেক বেশি। ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে। পোস্তা ওয়াসা পাম্পের বিপরীত পাশের সরু পথের ভেতরে এই কারখানার অবস্থান।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে বৃহস্পতিবার তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস। সংস্থার উপপরিচালক (অপারেশন) দীলিপ কুমার ঘোষকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। সহকারী পরিচালক (এডি) আব্দুল হালিম এবং উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) নিউটন দাসকে কমিটির সদস্য করা হয়েছে। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, অগ্নিকাণ্ড ঘটে যে কারখানায়, তার পাশাপাশি অন্তত অর্ধশত প্লাস্টিক, পলিথিন ও কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের কারখানা রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, ইসলামবাগের ঐ বাড়িতে প্লাস্টিক কারখানা স্থাপন করেন মামুন নামে এক ব্যক্তি। বছর দশেক আগে তিনি বাড়িটি ভাড়া নেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় ঐ কারখানার আশপাশে লোকজন থাকলেও প্লাস্টিক কারখানার দাহ্যপদার্থে লাগা আগুনের তীব্রতার কারণে কেউ তা নেভানোর সাহস করেনি। তারা দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যায়। এসব কারখানায় অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা একেবারেই নেই।

টিপু হাজীর বাড়ি নামে পরিচিত এই বাড়িটির নিচতলায় প্লাস্টিক কারখানা এবং ওপরে গুদাম। ভবনটির গা ঘেঁষে তিনটি বড়ো বড়ো ট্রান্সফরমার। এসব ট্রান্সফরমার দিয়েই এই কারখানায় বিদ্যুত্ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বুধবার রাত ৯টার দিকে ভবনটির পেছনের একটি ট্রান্সফরমারে আগুনের ফুলকি দেখা যায়। এরপর পাশের কারখানার একজন কেয়ারটেকার বিষয়টি তার মালিককে জানান। তিনি তখন বিদ্যুতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তা জানান। তারা এসে সংযোগটি ঠিক করে দিয়ে যাওয়ার দুই ঘণ্টা পরই রাত পৌনে ১১টার দিকে আগুন লাগে। আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। ঈদের ছুটি থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে একজন কারিগরকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে বলে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানিয়েছেন পাশের এক কারখানার কেয়ারটেকার চিত্তরঞ্জন দাস।

ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘জায়গাটি ঘিঞ্জি হওয়ায় ঘটনাস্থল পর্যন্ত গাড়ি নেওয়া যায়নি। পাইপ সংযোগ দিয়ে অন্য জায়গা থেকে পানি দিতে হয়েছে।’

ঘটনার পর কারখানার মালিকরা ঘটনাস্থলে যাননি। তাদের আত্মীয়স্বজনদের পাওয়া গেলেও তারা কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারিতে লালবাগের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ডে ৭৮ জনের প্রাণহানি হয়। ঐ অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির জন্য প্লাস্টিকের গুদামকে দায়ী করা হয়। এরপর পুরান ঢাকায় প্লাস্টিক কারখানার বিরুদ্ধে একযোগে অভিযান চালানো হয়েছিল। তখন এই কারাখানাটিরও বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। তবে প্ল­াস্টিক ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের মুখে আবারও সব প্লাস্টিক ও পলিথিন কারখানায় বিদ্যুত্ সংযোগ দেওয়া হয়।