ভারতের জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’-এর অবমাননাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় আনতে নতুন আইন প্রণয়নের পথে এগিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাজ্যসভায় এ লক্ষ্যে আনা ‘প্রিভেনশন অব ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধী দলগুলোর ওয়াকআউটের মধ্যেই বিলটি পাস হয়। বিলটি নিয়ে আলোচনার সময় বিরোধী সদস্যরা নিট (এনইইটি) প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্য দাবি করে স্লোগান দেন। বিক্ষোভ চললেও অধিবেশন চালিয়ে যান স্পিকার এবং সদস্যদের আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
পরে কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ ও ক্ষমতায়ন প্রতিমন্ত্রী রামদাস আঠাওয়ালে বিলের ওপর বক্তব্য শুরু করলে বিরোধী দলগুলো ওয়াকআউট করে।
বিলের জবাবি বক্তব্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই বলেন, তুষ্টিকরণের রাজনীতি করতে গিয়ে কংগ্রেস ‘বন্দে মাতরম’-এর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় বহু বিপ্লবী ও মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যুর আগে ‘বন্দে মাতরম’ উচ্চারণ করেছিলেন। তার ভাষায়, কংগ্রেস কেন এই জাতীয় সংগীতের বিরোধিতা করছে, তা বোধগম্য নয়। একই সঙ্গে তিনি উন্নত ও ঐক্যবদ্ধ ভারত গঠনে ‘বন্দে মাতরম’-এর গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন।
প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, জাতীয় পতাকা, সংবিধান, জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ এবং জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’সহ ভারতের জাতীয় প্রতীকগুলোর অবমাননা বা অসম্মানকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।
আইনটি কার্যকর হলে এসব জাতীয় প্রতীকের অবমাননার দায়ে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান থাকবে।
এর আগে ২৪ জুলাই রাজ্যসভায় বিলটি উত্থাপন করা হয়। এর মাধ্যমে ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সমপর্যায়ের আইনি সুরক্ষা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ‘বন্দে মাতরম’ রচনার ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বছরব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবেই মোদি সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে।
রাজ্যসভায় অনুমোদনের পর বিলটি এখন লোকসভায় উপস্থাপন করা হবে। সেখানে পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির সম্মতি পেলেই এটি আইনে পরিণত হবে।

