মিশর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় গাজায় নতুন চুক্তি ট্রাম্পের

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৮:২১

গাজা ভূখণ্ডে হামাসসহ সব সশস্ত্র গোষ্ঠীর ‘সম্পূর্ণ নিরস্ত্রিকরণ’ এবং ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের লক্ষ্যে একটি চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান যে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন ফিলিস্তিনি প্রশাসনের পথ সুগম হবে।

ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া বার্তা এবং এএফপিকে দেওয়া হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, মিশর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় এই সমঝোতা অর্জিত হয়েছে। চুক্তির আওতায় ধাপে ধাপে সমরাস্ত্র নিষ্ক্রিয় করা হবে এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পর আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা বাহিনী (আইএসএফ) ও নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী গাজার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে।

প্রস্তাবিত এই শান্ত পরিকল্পনার আওতায় ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ (এনসিএজি) নামের একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটি অন্তর্বর্তীকালীন শাসনকাজ পরিচালনা করবে। সকল প্রকার সুড়ঙ্গ, অস্ত্রের ডিপো এবং কারখানা ধ্বংসের পাশাপাশি ভারী ও হালকা সব ধরনের অস্ত্র এই কমিটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কায়রোতে শীঘ্রই মধ্যস্থতাকারীদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হবে।

চুক্তি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করা হলেও ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ইসরায়েলি একটি রাজনৈতিক সূত্র দাবি করেছে যে এই প্রস্তাব তাদের চাহিদা পুরোপুরি পূরণ করে না এবং তারা গাজার পূর্ণ সামরিকীকরণ বিলোপ চান। অন্যদিকে, অস্ত্রসংক্রান্ত দুটি ধারায় সংশোধনী প্রস্তাব দিয়ে ইসরায়েলি উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছে হামাসের একটি সূত্র।

এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও গাজায় সহিংসতা থামেনি এবং বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। এই সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের বৈঠকে গাজা প্রসঙ্গ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলেও জানানো হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

ইত্তেফাক/টিএইচ