২০২৫-২৬ মৌসুমটি রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থকদের কাছে অপূর্ণতার দীর্ঘ এক উপাখ্যান। যে ক্লাবের পরিচয়ই শিরোপা, সেই ক্লাব বছরের পর বছর ধরে যে ট্রফিগুলোকে নিজের অলংকার বানিয়ে এসেছে, এবার সেগুলোর কোনোটিই স্পর্শ করতে পারেনি। তবু ফুটবল সব সময় শুধু ট্রফির গল্প লেখে না। কখনো কখনো হিসাবের খাতাও ইতিহাস হয়ে ওঠে। আর সেই ইতিহাসই এবার লিখেছে রিয়াল মাদ্রিদ।
ক্লাবের প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে রিয়াল জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ মৌসুমে খেলোয়াড় বিক্রির আয় বাদ দিয়ে পরিচালন রাজস্ব থেকে তাদের আয় হয়েছে ১.২২১ বিলিয়ন ইউরো। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১৭ হাজার ২১৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। ক্লাবের ইতিহাসে তো বটেই, বিশ্বের কোনো ক্রীড়া সংস্থাই এর আগে পরিচালন রাজস্বে এমন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেনি।
রিয়ালের ভাষ্য অনুযায়ী, আগের অর্থবছরের তুলনায় এই আয় ৩.১ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো তারা ১.২ বিলিয়ন ইউরোর সীমা অতিক্রম করেছে। ক্লাবটির দাবি, এই অর্জন বিশ্ব ক্রীড়া শিল্পে রাজস্ব আয়ের শীর্ষে তাদের অবস্থানকে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছে।
শুধু আয় নয়, মুনাফার অঙ্কও বলছে সমৃদ্ধির গল্প। কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ২৬ মিলিয়ন ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৬৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। আগের মৌসুমের তুলনায় এটি ৮ শতাংশ বেশি। অথচ মাঠের গল্প ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০২৩-২৪ মৌসুমে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ, স্প্যানিশ লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতে ট্রেবল উৎসবে মাতলেও পরের দুই মৌসুম যেন হয়ে ওঠে হতাশার প্রতিচ্ছবি। ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬-দুই মৌসুমেই কোনো বড় শিরোপা জেতা হয়নি। এমনকি স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালেও দুই বছর ধরে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার কাছে হার মেনে রানার্সআপ হয় লস ব্লাঙ্কোরা।

