গাজায় যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে রাজি হয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। চুক্তি অনুযায়ী, ধাপে ধাপে অস্ত্র ছেড়ে নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হয়েছে তারা। এর বিনিময়ে গাজা থেকে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করার কথা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ চুক্তির ঘোষণা দেন। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’ জানিয়েছে, মিসর, কাতার, তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজায় যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপের একটি রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছে।
তবে ইসরায়েল এখনো প্রকাশ্যে এই চুক্তিতে সম্মতি জানায়নি। হামাসও জানিয়েছে, ইসরায়েল চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সেনা প্রত্যাহার না করলে তারা কোনো ধাপ বাস্তবায়ন করবে না।
হামাসের আলোচক দলের সদস্য গাজি হামাদ বলেছেন, ইসরায়েল নিজেদের দায়িত্ব পালন না করলে হামাস চুক্তির কোনো অংশ বাস্তবায়ন করবে না। তিনি জানান, গাজায় অস্ত্রের তালিকা তৈরি ও সংরক্ষণের দায়িত্ব থাকবে একটি ফিলিস্তিনি জাতীয় কমিটির হাতে।
চুক্তি অনুযায়ী, ১৪ দিনের মধ্যে হামাসের অস্ত্রের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হবে। প্রথমে ভারী অস্ত্র, অস্ত্রের গুদাম, অস্ত্র তৈরির স্থাপনা এবং সুড়ঙ্গগুলোকে নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে।
এ কাজ তদারক করবে একটি আন্তর্জাতিক যাচাই কমিশন, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী ও নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী। নিরস্ত্রীকরণের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েলি সেনারা গাজার বিভিন্ন এলাকা থেকে সরে যাবে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরো নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া শেষ হতে ২০০ থেকে ৩০০ দিন সময় লাগতে পারে। আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে প্রায় ৫ হাজার সদস্য থাকতে পারে।
চুক্তির আরেকটি অংশ অনুযায়ী, গাজার দৈনন্দিন প্রশাসনের দায়িত্ব একটি ফিলিস্তিনি কারিগরি কমিটির হাতে দেওয়া হবে। এই কমিটি ‘বোর্ড অব পিস’-এর তত্ত্বাবধানে কাজ করবে। সেখানে হামাসের কোনো প্রতিনিধি থাকবে না।
তবে চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয়ও রয়েছে। গাজায় হামাস ছাড়া আরও কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে। তারা চুক্তি মেনে অস্ত্র ছাড়বে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এ ছাড়া ইসরায়েল চুক্তি মেনে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে কি না, সেটিও বড় প্রশ্ন। কারণ এর আগের যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলা ও মানবিক সহায়তা প্রবেশে নানা বাধার অভিযোগ রয়েছে।
গাজার সাধারণ মানুষও নতুন এই চুক্তি নিয়ে সতর্ক। তারা যুদ্ধের স্থায়ী অবসান, নিজেদের বাড়িঘরে ফেরার সুযোগ এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার নিশ্চয়তা চাচ্ছেন।
সূত্র: আল জাজিরা

