প্রতিবেশীকে চিকিৎসার জন্য ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন সোলাইমান মিয়া (৪৩)। রোগী মারা যাওয়ার খবর পেয়ে রাতে আবার হাসপাতালে ফেরার পথে কাভার্ডভ্যানের চাপায় নিহত হয়েছেন তিনি।
শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে শনির আখড়া ফুটওভার ব্রিজের নিচে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে রাত ২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃতের শ্যালক মো. লিটন ব্যাপারী জানান, নিহত সোলাইমান মিয়ার বাড়ি মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার নয়াগাঁও পূর্বপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম আব্দুল মজিদ দেওয়ান। তিনি পেশায় একজন আলমারির মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন।
লিটন ব্যাপারী আরও জানান, গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় সোলাইমানের এক প্রতিবেশী স্ট্রোক করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন ওই ব্যক্তিকে ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে আনা হয়। ওই ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে আসেন সোলাইমান। রোগীকে ভর্তি করিয়ে রাতে বাসে করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। এ সময় ওই ব্যক্তির মারা যাওয়ার খবর পেয়ে বাস থেকে নেমে যান। এরপর ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে করে মিটফোর্ড হাসপাতালে উদ্দেশে রওনা হন। তখনই কাভার্ডভ্যানের চাপায় মৃত্যু হয় তার।
যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হিরণ ভূঁইয়া জানান, মধ্যরাতে রাইড শেয়ারিংয়ের মোটরসাইকেলে করে ঢাকায় প্রবেশ করছিলেন সোলাইমান। শনির আখড়া ফুটওভার ব্রিজের নিচে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেল চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এ সময় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে গেলে পেছন থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যান সোলাইমানকে চাপা দেয়। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এসআই আরও জানান, কাভার্ডভ্যানটি জব্দ এবং এর চালককে আটক করা হয়েছে। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

