আট ডিফেন্ডার নিয়ে জাতীয় দল গেল ইন্দোনেশিয়ায়

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৮

জাতীয় ফুটবল দলের আনুষ্ঠানিক চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগেই তালিকা বাফুফের লোকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছিল। সেই তালিকা হতে এক জনকে বাদ দিয়ে ২৩ জনের দল ঘোষণা করা হয়েছে পরশু গভীর রাতে। জাতীয় দল এভাবে ঘোষণা করা হওয়াটা দৃষ্টিকটু। বাফুফের অপেশাদারিত্ব প্রকাশ পায়। তাতে বাফুফের কিছু যায় আসে না। ঘোষণা করা হয়েছে, এটাই বেশি। 

গতকাল রাতেই ২৩ জনের ফুটবল দল ইন্দোনেশিয়ার পথে রওনা হয়েছে। সিঙ্গাপুর হয়ে জাকার্তায় পৌঁছাবে ফুটবল দল। বিশ্রাম নিয়ে সেখানে বিকালেই হালকা অনুশীলন করবে। দল থেকে বাদ পড়াদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার ছিলেন তপু বর্মন। রক্ষণভাবে এই ফুটবলার দলের পেছনে বড় ভূমিকা রাখেন। কিন্তু তাকে বাদ দিতেই হয়েছে চোটের কারণে। কোচ থমাস ঢুলি মনে করছেন, ইন্দোনেশিয়ার টুর্নামেন্টের চেয়ে ঢাকায় সাফের টুর্নামেন্ট বাংলাদেশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। 

সাফে ট্রফি জেতার জন্য মাঠে নামবে বাংলাদেশ। কিন্তু ইন্দোনেশিয়ার টুর্নামেন্টে ট্রফি জয়ের জন্য লড়াই করবে না। তপুকে সেরে ওঠার সময় দেওয়া হয়েছে দলের প্রয়োজনে। রক্ষণভাগে ৮ ডিফেন্ডার নিয়েছেন কোচ। থামাস ঢুলি বার বার বলে আসছেন ইন্দোনেশিয়ার টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ আন্ডারডগ হয়ে খেলবে। ইন্দোনেশিয়ার ফুটবলাররা বুন্দেসলিগায় খেলে, স্পেন ইতালির প্রথম বিভাগ লিগে খেলে। তিনি প্রশ্ন করেন বাংলাদেশের ফুটবলাররা দেশের বাইরে কে কোথায় খেলেন? এক জন হামজা চৌধুরী ছাড়া।'

ফিফা প্রথমবার আসিয়ান কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে। সেখানে ভারত না খেলার কারণে বাংলাদেশ সুযোগ পেয়েছে। কঠিন টুর্নামেন্ট। ফিফার র‍্যাংকিংয়ে থাকা দেশগুলোর বিপক্ষে খেলতে হবে। বাংলাদেশের বিপক্ষে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে খেলতে হবে। সুযোগ হলে আরও একটি বেশি ম্যাচ পেতে পারে বাংলদেশ। কঠিন প্রতিপক্ষ, তাই জার্মানি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের কোচ থামস ঢুলি আক্রমণভাগে হামজাদের উপর নির্ভর করছেন, আর রক্ষণে তিনি ৮ ডিফেন্ডারকে দলে নিয়েছেন যেন রক্ষণভাগে সমস্যা কম হয়। তপু বর্মনের জায়গাটা পূরণ করতে চান অন্যদের দিয়ে। 
আক্রমণভাগে কোচ একজন নাম্বার নাইন পজিশনের ফুটবলার খুঁজছিলেন। সেটিও তিনি নোটবুকে তুলে নিয়েছেন। কাকে খেলাবেন, নাম ঘোষণা করেননি।

গোলরক্ষক পজিশনে আনিসুর রহমান জিকো এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাইফ কেরাওয়ালা অনেক স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু কোচ তাকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত রাখার চেষ্টা করেছেন, হয়নি। সাইফ কেরাওয়ালা ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার গোলররক্ষক যেভাবে প্রচার করা হয়েছে-তার মাঠের পারফরম্যান্স আহামরি নয়। এখনো দক্ষতা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। সামনে আরও সময় রয়েছে। 

আনিসুর রহমান জিকো মানেই জাতীয় দল নিশ্চিত, এমনটাই মনে করতেন জিকো। সেটা যে ভুল তা প্রমাণ করে দিয়েছেন কোচ থমাস ঢুলি। শ্রাবণের মতো জুনিয়র গোলরক্ষকে পেছনে ঠেলে জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার মতো পারফম্যান্স করতে পারেননি জিকো। মন খারাপ করে চলে গিয়েছেন বাসায়। হ্যাভিয়ের কাবরেরা থাকাকালীন বহুবার জিকোকে সচেতন হতে বলেছিলেন। কান দেননি জিকো।

দল গঠন নিয়ে জামাল ভূঁইয়া গতকাল বলেছেন, 'আমাদের কোচ প্রতিপক্ষের র‍্যাংকিং দেখে বলেছিলেন, বেশি কিছু আশা না করার পক্ষে। আমি জানি না কোচ কী কারণে বলেছিলেন। হয়তো র‍্যাংকিং দেখে মনে হয়েছে কোচের। তবে আমাদের খেলোয়াড়দের মধ্যে জেতার মানসিকতা তৈরি হয়েছে। আপনাকে প্রত্যাশা করতে হবে। শুধু অংশগ্রহণ করার জন্যই আমরা যাচ্ছি না। পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের খেলোয়াড়দের মধ্যে।' 

কেন মনে হচ্ছে আসিয়ান কাপের পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়া সম্ভব। জামাল ভূঁইয়া টানলেন পুরোনো স্মৃতি। ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ দ্বিতীয় পর্বে খেলেছিল। 'এশিয়ান গেমসে আমাদের বিপক্ষে উজবেকিস্তান, থাইল্যান্ড আর কাতার ছিল। আমরা গেমসে যাওয়ার আগে কেউ ভাবেনি কোয়ালিফাই করতে পারি। আমরা কিন্তু কোয়ালিফাই করে গেমসের শেষ ষোলোতে উঠেছিলাম। এবারও যে সেরকম কিছু ঘটবে সেটা কে বলতে পারে।'

বর্তমান র‍্যাংকিংয়ে ইন্দোনেশিয়া ১১৮তম, মালয়েশিয়া ১৩৬তম, সিঙ্গাপুর ১৪৮তম এবং বাংলাদেশ ১৮১তম। ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার মালয়েশিয়ার বিপক্ষে, ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর এবং ১ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

ইত্তেফাক/জেডএইচ