এক দশকেরও বেশি সময় পর জাপানের মুদ্রা বাজারে হস্তক্ষেপ করে ইয়েন কিনেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই পদক্ষেপকে জাপানের প্রতি ‘বন্ধুত্বের বার্তা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাপানি মুদ্রার রেকর্ড দরপতন রোধে ওয়াশিংটন ও টোকিও যৌথ এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইয়েনের মান ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ার পর এই বিরল পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের জানান যে জাপানি মুদ্রার দরপতন হচ্ছিল এবং তারা কিছুটা সাহায্য চেয়েছিল, আর যুক্তরাষ্ট্র সবসময় জাপানের পাশে আছে। এর আগে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয় যে ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের পক্ষে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক ইউরো বিক্রি করে ইয়েন কিনেছে।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ জানান, জাপানি মুদ্রার অস্বাভাবিক ওঠানামা রোধ করতে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান যৌথভাবে বাজারে হস্তক্ষেপ করেছে। প্রয়োজনে পরবর্তীতে আবারও এই ধরনের যৌথ পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিধা করবে না বলেও জানান তিনি।
জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে অস্বাভাবিক ওঠানামা ও বিশৃঙ্খলা রোধ করতেই এই যৌথ হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং ভবিষ্যতে আবারও এই যৌথ পদক্ষেপে অংশ নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন যে জাপানি ইয়েনকে সহায়তা করা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ভালো হবে। এই হস্তক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আর্থিক সুবিধা পাবে বলেও জানান তিনি। এর আগে ২০১১ সালে এক বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর ইয়েনের দাম অতিরিক্ত বেড়ে গেলে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলো এবং ব্যাংক অব জাপান যৌথভাবে বাজারে ইয়েন বিক্রি করে হস্তক্ষেপ করেছিল।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

