জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন

‘ছাগলকাণ্ডে’র মতিউরের বিচার শুরু

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৮:০৫

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় ছাগলকাণ্ডে আলোচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে এ মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।

সোমবার (৩ আগস্ট) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীরের আদালত এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ঠিক করেছেন। দুদক প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী সালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  

এদিন কারাগার থেকে আসামি মতিউরকে আদালতে আনা হয়। এ সময় তাকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। পরে তাকে আদালতে তোলা হয়। এসময় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়। তিনি দোষী না নির্দোষ জানতে চাইলে, মতিউর রহমান নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করেন। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন। 

এরপর মতিউর রহমানের জামিন চেয়ে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও মো. বোরহান উদ্দিন ৷ দুদক প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী সালাম জামিনের বিরোধিতা করেন। পরে আদালত তার জামিনের আবেদন না-মঞ্জুর করেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দাখিল করা চার্জশিটে বলা হয়েছে, মতিউর রহমান তার সম্পদ বিবরণীতে ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এছাড়া সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।
ছাগলকাণ্ডের মতিউর রহমান। ফাইল ছবি
২০২৪ সালে ‎কোরবানির জন্য ১৫ লাখ টাকা দিয়ে একটি ছাগল কিনতে গিয়ে আলোচনায় আসেন মুশফিকুর রহমান ইফাত নামের এক যুবক। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা শুরু হয়। বলা হয়, তার বাবা এনবিআর সদস্য এবং কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট মতিউর রহমান।

‎এরপর আলোচনা চলে মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের কোথায় কী পরিমাণ সম্পদ রয়েছে এসব নিয়ে। এসব আলোচনার মধ্যে একের পর এক বেরিয়ে আসতে থাকে মতিউর পরিবারের বিপুল বিত্তবৈভবের চাঞ্চল্যকর তথ্য।

২০২৪ সালের ৪ জুন মতিউর ও তার পরিবারের সদস্যদের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অনুসন্ধানের নামে দুদক। অনুসন্ধানে মতিউর ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ৬৫ বিঘা জমি, ৮টি ফ্ল্যাট, ২টি রিসোর্ট ও পিকনিক স্পট এবং ৩টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তথ্য পায় দুদক। মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ফোনে আর্থিক সেবার হিসাব ও শেয়ারবাজারের বিও হিসাব ক্রোক করা হয়।

ইত্তেফাক/এনএ