২০২৪ সালের ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ঘোষিত ‘এক দফা’ ছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোর একটি। তবে এই সিদ্ধান্ত কীভাবে এল, কারা এর পক্ষে ছিলেন, কে বা কারা আপত্তি তুলেছিলেন এবং ঘোষণার আগে-পরে কী ধরনের আলোচনা হয়েছিল—এসব প্রশ্ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা বয়ান ও বিতর্ক রয়েছে। সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের। দীর্ঘ এক ফেসবুক পোস্টে তিনি ‘এক দফা’ ঘোষণার আগে রাজনৈতিক দল, আন্দোলনের সমন্বয়ক, কয়েকজন সাংবাদিক ও বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে হওয়া আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে নিজের বিস্তারিত ভাষ্য তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে নাহিদ ইসলাম ও মাহফুজ আলমের ‘কোয়ার্টার’–সংক্রান্ত বক্তব্যেরও জবাব দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৪ আগস্ট) বিকেলে দেওয়া এক দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে তিনি ‘এক দফা’ ঘোষণার আগে-পরে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা দেন। ওই পোস্টে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, কয়েকজন সাংবাদিক এবং তৎকালীন সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, রিফাত রশিদ, আবদুল হান্নান মাসউদ, মাহিন সরকার ও মাহফুজ আলমের (পরে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা) ভূমিকা নিয়েও নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।
‘এক দফা’ নিয়ে প্রথম আলোচনা
‘ঐতিহাসিক এক দফার নেপথ্যের ইতিহাস, কিছু বিষয় আপনাদের কাছে ক্লিয়ার করা জরুরি’ শিরোনামের পোস্টে আবদুল কাদের লেখেন, ১ আগস্ট ডিবি হেফাজত থেকে ছয় সমন্বয়ক মুক্তি পাওয়ার পর তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠক হয়নি। যদিও ব্যক্তিগতভাবে কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল।
তিনি জানান, মাহিন সরকার, আবদুল হান্নান মাসউদ ও রিফাত রশিদ ও বাকের নিজেদের সিদ্ধান্তে ২ আগস্টের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তবে এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ডিবি হেফাজত থেকে মুক্ত হয়ে আসা কয়েকজন সমন্বয়কের সঙ্গে তাদের মতবিরোধ তৈরি হয়, যা সন্ধ্যার দিকে তীব্র আকার নেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণে ২ আগস্ট জুমার নামাজের পর অনলাইনে বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়।
কাদেরের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বৈঠকে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম উপস্থিত ছিলেন না। আলোচনার প্রথম বিষয় ছিল আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে কি না। এক-দুজনের ভিন্নমত ছাড়া প্রায় সবাই আন্দোলন অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দেন।
পরে সিদ্ধান্ত হয়, আবদুল কাদের, আবদুল হান্নান মাসউদ, রিফাত রশিদ ও মাহিন সরকার পরবর্তী কয়েক দিন আগের মতো আন্দোলনের দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যদিকে, সিনিয়র সমন্বয়কেরা পরে আনুষ্ঠানিকভাবে সক্রিয় হবেন এবং আপাতত পেছন থেকে সমন্বয়ের কাজ করবেন।
কেন উঠেছিল ‘এক দফা’র প্রসঙ্গ
কাদের লেখেন, ‘আলোচনার মধ্যে আমি আর রিফাত এক দফার ব্যাপারে সিনিয়রদের কনসার্ন জানাই এবং তাদের মতামত জানতে চাই। আমি মাঠের পরিস্থিতি তুলে ধরি। পেশাজীবী-শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী এবং শিল্পী-সমাজের সরাসরি মাঠপর্যায়ে একাত্মতা পোষণের দিক, অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খানের সরকারের ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগের বক্তব্য এবং সেই সময়ে চলমান দ্রোহযাত্রার বিষয়ে তাদের অবহিত করি।’
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনায় উপস্থিত কয়েকজনের মত ছিল আরও সাত থেকে ১০ দিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরে ‘এক দফা’র সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত ওই বৈঠকে ৩ আগস্ট অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও ‘এক দফা’ নিয়ে আলোচনা
আবদুল কাদের জানান, ‘এক দফা’র বিষয়টি আলোচনায় আসার পর প্রচলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধারাবাহিকতায় তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদ্য সাবেক নেতা ও ডাকসুর ভিপি মো. আবু সাদিক কায়েমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের কাছে তিনি সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের বিষয়টি তুলে ধরেন।
ফেসবুক পোস্টে কাদের লেখেন, ‘সবকিছু শোনার পর নাছির ভাই বললেন, “তাহলে এই ব্যাপারটা আমি চেয়ারম্যান স্যারের (বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান) সঙ্গে আলাপ করে নিই।” আর সাদিক ভাই বললেন, “আমি তাহলে মুরুব্বিদের সঙ্গে আলোচনা করে তোমাকে জানাচ্ছি।”’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাগরিবের পর সন্ধ্যার দিকে তার বাসায় এক নারী সাংবাদিক ও ওয়াহিদ আলম উপস্থিত হন। তাদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি জানান, ‘এক দফা’ ঘোষণার বিষয়ে তিনি প্রস্তুত এবং ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সঙ্গেও প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। তবে সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে রিফাত রশিদ, মাহিন সরকার ও আবদুল হান্নান মাসউদের সম্মতি প্রয়োজন।
সে সময় ওই তিন সমন্বয়ক একই বাসায় অবস্থান করছিলেন। কাদের তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ‘এক দফা’র বিষয়ে মতামত জানতে চান। জবাবে তারা বলেন, ডিবি কার্যালয় থেকে মুক্ত হওয়া সিনিয়র সমন্বয়কেরাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। যদিও আলোচনার একপর্যায়ে তারা ইঙ্গিত দেন, সপরিবার দূতাবাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে ‘এক দফা’র বিষয়ে এগোনো যেতে পারে।
এই প্রসঙ্গে কাদের লেখেন, ‘আমি তাদের সার্বিক পরিস্থিতি এবং দুপুরের বৈঠকে সিনিয়রদের গৃহীত সিদ্ধান্তের বিষয় উল্লেখ করে বোঝানোর চেষ্টা করি, এমন পরিস্থিতি আরও সাত-দশ দিন চললে অনেক বেশি প্রাণহানি হবে আর মানুষের জীবন নিয়ে তো আমরা এক্সপেরিমেন্ট চালাতে পারি না। যে কথা দুপুরের বৈঠকেও আমি বলেছিলাম, তাদের বলি, এক দফায় উপনীত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সিদ্ধান্তের দোলাচলে ঝুলে না থেকে আমরা এক দফা দিই, এক দফা দেওয়ার পর যা হওয়ার হবে। এরই মধ্যে আমি এক জায়গা থেকে খবর পাই, পরবর্তী দিন (৩ আগস্ট) হাসিনা ছলচাতুরী করে ৯ দফা মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে, যেটা আমাকে এক দফার ব্যাপারে আরও তাড়না জোগায়।’

খসড়া প্রস্তুত ও মতবিনিময়
কাদেরের ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনার একপর্যায়ে রিফাত রশিদসহ তিন সমন্বয়কও ‘এক দফা’ ঘোষণার পক্ষে সম্মতি দেন। এরপর ঘোষণাপত্রের খসড়া তৈরির কাজ শুরু হয়।
তিনি লেখেন, ‘তাদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এই দিকে আমরা এক দফার ঘোষণাপত্র খসড়া করে ফেলি। খসড়া করেন ওই নারী সাংবাদিকের এক সহকর্মী। সংযোজন-বিয়োজন করেন ওয়াহিদ ভাই। পরবর্তী সময়ে আমি সেটা রিফাতদের পাঠাই। তারা কয়েকটা বিষয়ে আপত্তি জানান। সেসব বিষয়ে সংযোজন-বিয়োজনের কাজ চলতে থাকে। এর মধ্যেই আমি ছাত্রদল-শিবিরসহ অন্যান্য মানুষের সঙ্গে আলাপ চালাতে থাকি। উপস্থিত বাকিরাও একই কাজ করতে থাকেন।’
রাত ১০টার দিকে ছাত্রদলের শীর্ষ নেতা নাছির উদ্দীন তাকে ফোন করেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন কাদের। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নাছির উদ্দীন বলেন, ‘এক দফা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হইছে, সেটা চেয়ারম্যান স্যারও জানিয়েছেন। তোমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারো।’
একই সময় আবু সাদিক কায়েমও তাকে জানান, ‘এটা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, তুমি হাজতের নামাজ পড়ে একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে নাও, আমাকে জানাও, এক দফার বিষয়ে আমরা প্রস্তুত।’
কাদেরের দাবি, এরপর দুই পক্ষের ইতিবাচক অবস্থানের ভিত্তিতে ঘোষণাপত্র তাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে আরও আলোচনা চালানো হয়। পাশাপাশি তিনি ‘এক দফা’ ঘোষণার একটি ভিডিও বার্তাও প্রস্তুত করেন।
তবে ঠিক সেই সময় পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়। কাদেরের ভাষ্য অনুযায়ী, রিফাত রশিদ, মাহিন সরকার ও আবদুল হান্নান মাসউদ হঠাৎ যোগাযোগ কমিয়ে দেন। পরে তাদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, নাহিদ ইসলামদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তারা ‘এক দফা’ ঘোষণার বিষয়ে সম্মতি দেননি।
এ বিষয়ে কাদের লেখেন, ‘রিফাত-মাসউদরা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করায় আমরা আকস্মিকভাবে হতভম্ব হয়ে যাই; তাদের সম্মতির ভিত্তিতে এই দিকে সব রেডি (প্রস্তুত)! রিফাতদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি, তারা ফোন ধরে, আবার ধরে না।’
‘এক দফা’ ঘোষণা
আবদুল কাদেরের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই রাতেই রিফাত রশিদ, মাহিন সরকার ও আবদুল হান্নান মাসউদ তার সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করেন। তখন তারা জানান, ‘এক দফা’ ঘোষণা দিতে আগ্রহী নন।
কাদের পোস্টে লেখেন, ‘কারণ, নাহিদ ভাই এনশিউর (নিশ্চিত) করেছেন, এক দফা মাঠ থেকেই দেবেন।’
এরপর বিষয়টি নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়। কাদের জানান, তিনি রিফাতদের কাছে স্পষ্টভাবে জানতে চান, নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ পরদিন সত্যিই ‘এক দফা’ ঘোষণা করবেন কি না।
এ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘তারা কনফার্ম হয়ে পরবর্তী সময়ে আমাকে জানান, আগামীকাল নাহিদ ভাইরা এক দফা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর যদি না দেন, তাহলে আমরা চারজন মিলেই এক দফা দেব, সিনিয়রদের জন্য আর ওয়েট করব না—রিফাত আমাকে এই প্রতিশ্রুতি দেন।’
এই আশ্বাস পাওয়ার পর সেদিন আর পৃথকভাবে ‘এক দফা’ ঘোষণার উদ্যোগ নেননি বলে উল্লেখ করেন কাদের। প্রস্তুত করা ভিডিও বার্তাও প্রকাশ করা হয়নি।
তিনি লেখেন, ‘আমি তাদের কথায় কনভিন্সড হয়ে যাই। কারণ, এক দফা আমি কিংবা আমরা রিফাতরা-ই দিতে হবে, বিষয়টা তেমন নয়। আমাদের এক দফায় আসতে হবে, এক দফা দিতে হবে—সেটাই আমার মূল কনসার্ন ছিল। চারদিকে এত এত হত্যাযজ্ঞ আর পরদিন হাসিনার নয় দফা মেনে নেওয়ার নামে নতুন দুরভিসন্ধির ব্যাপারেই মূলত কনসার্নড (উদ্বিগ্ন) ছিলাম।’
‘কোয়ার্টার’ বিতর্কে কাদেরের ব্যাখ্যা
নাহিদ ইসলাম ও মাহফুজ আলম যে ‘মহল’ বা ‘কোয়ার্টার’-এর কথা উল্লেখ করেছিলেন, সে বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন আবদুল কাদের।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ২ আগস্ট গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির নেতাদের প্রায় তিন ঘণ্টার অনলাইন বৈঠক শেষ হওয়ার পর তার বাসায় এক নারী সাংবাদিক এবং ওয়াহিদ আলম আসেন। তাদের সঙ্গে আগেও আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচি ও সমন্বয়কদের নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে যোগাযোগ ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কাদের লেখেন, ‘এরই মধ্যে আমার বাসায় এক নারী সাংবাদিক আর ওয়াহিদ আলম নামে দুজন ব্যক্তি আসেন। বৈঠক শেষ করে আমি তাদের সঙ্গে আলাপ করতে বসি। তারা নতুন কেউ নন। আগে থেকেই কানেক্টেড (যুক্ত) ছিলাম আমরা। আন্দোলনের কর্মসূচি, তাঁদের বাসায় সমন্বয়কদের নিরাপত্তা দেওয়াসহ অনেক বিষয়ে তাঁরা যুক্ত ছিলেন। আলাপের একপর্যায়ে তাঁরা সার্বিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে এক দফা দেওয়ার বিষয়ে আমাকে পরামর্শ দেন।’
তিনি আরও জানান, ওই আলোচনায় একটি ইংরেজি দৈনিকের এক নারী সাংবাদিক ও ওয়াহিদ আলমের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন তায়সীর কাদের চৌধুরী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তায়সীর তখন যে বাসায় তিনি অবস্থান করছিলেন, সেটির মালিক ছিলেন এবং ছাত্রজীবনে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি ঢাকায় একটি দূতাবাসে কর্মরত।
কাদেরের দাবি, শুরুতে এই তিনজনের মধ্যেই ‘এক দফা’ নিয়ে আলোচনা হয়। পরে অনলাইনে আলোচনায় যুক্ত হন সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। আরও পরে ফোনে মানবাধিকারকর্মী রেজাউর রহমান লেনিনও এ বিষয়ে মতামত দেন।
তিনি লেখেন, ‘আমরা এই তিনজন নিজেদের মধ্যে এক দফা নিয়ে শুরুতে আলাপ করি। এই আলাপে পরবর্তী সময়ে অনলাইনে যুক্ত হন সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের ভাই, তারও অনেক পরে ফোনকলে এ বিষয়ে আমাদের আলাপ হয় মানবাধিকারকর্মী রেজাউর রহমান লেনিন ভাইয়ের সঙ্গে। মোটামুটি এই কয়েকজন মূলত ওই দিন পুরা প্রক্রিয়ার সঙ্গে ছিলেন।’
‘ফ্যাসিবাদকে টিকিয়ে রাখার ফাঁদ’—দাবি প্রত্যাখ্যান
আবদুল কাদের বলেন, বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা এবং পরিস্থিতি মূল্যায়নের পরই তারা ‘এক দফা’র সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন। তার দাবি, এটিকে কোনো ‘কোয়ার্টার’ বা বিশেষ মহলের পরিকল্পনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তিনি লেখেন, ‘কথিত কোয়ার্টার কিংবা ফ্যাসিবাদকে টিকিয়ে রাখার ফাঁদ কীভাবে ছিল, সেটা আমার জানা নাই। তা ছাড়া ওই দিনের ঘোষণায় ছাত্রদের সমন্বয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হইছিল। ছাত্রদল এবং শিবিরের নেতারা তাদের মাদার পার্টির সঙ্গে আলোচনা করে ওই দিন এক দফার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল, যেটা নিত্যপ্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা ছিল। সবাই অবগত, সবাই রাজি এবং প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তাহলে এটা কীভাবে কোয়ার্টার থেকে আসে বা ফ্যাসিবাদের অংশ, তা আমার বোধগম্য নয়।’
পোস্টের শেষাংশে কাদের দাবি করেন, ‘এক দফা’ ঘোষণার উদ্যোগ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একক সিদ্ধান্ত ছিল না; বরং সে সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা, আন্দোলনের পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন পক্ষের মতামত বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্তের দিকে এগোনো হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তারা মূলত আন্দোলনরত মানুষের আকাঙ্ক্ষারই প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।

