পটুয়াখালীর বাউফলে ব্যবসায়ী ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সদস্য ফরিদ উদ্দিন গাজীর (৫০) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বাদী হয়ে ফরিদ গাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেছেন। মামলায় ফরিদ গাজীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে তাকে দলীয় সব সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বাউফল সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি ঢাকায় জমি কেনাবেচার ব্যবসা করেন। পাশাপাশি এলাকায় গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার এবং মাছের ঘেরের ব্যবসা রয়েছে। আসন্ন ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি এলাকায় ব্যানার ও ফেস্টুন টানিয়েছেন।
গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলের অভিযোগ, প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ফরিদ গাজী তাকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার তিনি বাউফল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে শনিবার ফরিদ গাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেন। তার অভিযোগ, এর আগে তার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের একটি অডিওতে ফরিদ গাজীকে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দিতে শোনা যায়। ওই কথোপকথন রেকর্ড করে রাখার কথাও বলতে শোনা যায় তাকে।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলের করা চাঁদাবাজির মামলায় ফরিদ গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। গোবিন্দ মণ্ডলের নিরাপত্তার বিষয়টি পুলিশ তদারক করছে।
এদিকে হুমকির অভিযোগ ও ফোনালাপ ছড়িয়ে পড়ার পর ফরিদ গাজীকে বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্য পদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে পটুয়াখালী জেলা বিএনপি। শুক্রবার জেলা বিএনপির সভাপতি মেহেরুল সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান টোটুল স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, অভিযোগিত কর্মকাণ্ড দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শের পরিপন্থী হওয়ায় সাংগঠনিক ভাবমূর্তি রক্ষার্থে ফরিদ গাজীকে দলীয় সব সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

